রবিবার,২৫,ফেব্রুয়ারি,২০২৪
20 C
Dhaka
রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৪
Homeসম্পাদকীয়অশান্তির আন্দোলন/উৎসবমুখর নির্বাচন

অশান্তির আন্দোলন/উৎসবমুখর নির্বাচন

একদিকে নির্বাচনী উৎসব, অন্যদিকে হরতাল-অবরোধ। গণতান্ত্রিক উপায়ে করলেও তাও হয়। একে আন্দোলন বলা যায় কি! আন্দোলনে জনগণের সমর্থন আছে কি! বলা চলে নেই। বিরোধীদের ডাকে লোক সমাগম হয় বটে, তবে দেশের জনসংখ্যার তুলনায় তার পার্সেন্টেস কত? পরিসংখ্যান অনুযায়ী একেবারেই কম। কেন কম? রহস্য হলো রাষ্ট্র সংস্কারের ২৭ দফা রূপ রেখা থেকে ১০ দফা, সেখান থেকে ১ দফা লড়াই। তাতে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, যুব কর্মসংস্থান ও জনজীবনের সংকট নিরসনের দাবি নেই, আছে কেবল ক্ষমতা। ক্ষমতার সে লড়াইয়ে জনতার চেয়ে ভরসা বেশি মার্কিন সা¤্রাজ্যবাদ ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের ওপর। ফলে বিরোধীদের আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা না থাকায় তারা পুরনো কায়দায় বেছে নিয়েছে আগুন সন্ত্রাসের পথ।
আন্দোলন চলছে অনেক আগে থেকেই। শেষ হয় নি। হবে বলেও মনে হয় না। কারণ ক্ষমতাসীনরাও অনড় যথা সময়ে সংবিধান মেনেই নির্বাচন করবে। রাষ্ট্রপতির সাথে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল সহ কমিশন সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতিও গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে যথা সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেছেন। সেই মতে ইসি ইতোমধ্যেই নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আসছে বছরের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইলেকশন কমিশন যেমন কাজ শুরু করেছে, তেমনি নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচনী কাজে নেমে পড়েছে। দেশে বইছে নির্বাচনী হাওয়া।
তাহলে বিরোধীদের আন্দোলনের কি হবে! বন্ধ হয়ে যাবে। মনে তো হয় যাবে না! কারণ তাদের বিদেশি মিত্ররা আশ^াসে রেখেছে, সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। ফলে আন্দোলন আরো চলবে। কত দিন চলবে তা অনিশ্চিত হলেও, অবরোধ চলাকালে যে সারা দেশে আরো গাড়ি পোড়ানো ও ভাঙচুর হবে, এটা নিশ্চিত। এই গাড়ি পুড়িয়ে, ভাঙচুর করে বিরোধী দলের কী ফায়দা হচ্ছে, তা কেউ বলতে পারবে না। বিএনপি ও তার মিত্ররা সরকার পতনের স্বপ্ন দেখছে। আর সরকার ও নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচনের।
বিরোধীরা আরো একটি স্বপ্ন দেখছে, তা হলো অনির্বাচিত সরকার। আন্দোলনের কারণে সরকার পদত্যাগ করে অরাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে-এমন কল্পনায় বিরোধীরা বিভোর। তাদের সেই স্বপ্নও বাস্তবে রূপ নিবে না।
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনের প্রস্তুিিত শুরু করেছে। মনোনয়নপত্র বিতরণের কাজ চলছে পুরোদমে। অন্যান্য দলও তাদের দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু করেছে। অবশ্য ক্ষমতাসীনরা বলছে, দরজা খোলা আছে। যে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। সেই মোতাবেক তারা বিএনপি আসছে, এটা ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “নির্বাচন জনগণের অধিকার। গণতান্ত্রিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার। জনগণের এই অধিকার সুরক্ষা দেওয়া এবং সুষ্ঠুভাবে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন করা-এটাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য।”
তবে নানা দিক থেকে চক্রান্ত হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এখানে চক্রান্ত আছে। চক্রান্ত করেই চেষ্টা হচ্ছে অর্থনৈতিকভাবে দেশকে পঙ্গু করা, অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ হত্যা করে একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা। সব দিক থেকে চেষ্টা হচ্ছে। এরই মধ্যে আমাদের সবাইকে এক হয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের শক্তি দেশবাসী।”
শক্তি বিএনপি’রও। তবে বিএনপিকে সেই সত্য মেনে জনতার ওপর ভরসা রেখে নির্বাচনে ফিরে আসতে হবে। বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসে এবং মানুষ নির্বিঘেœ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তাহলে দেশে যেমন গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে, তেমনি স্বস্তিও ফিরবে। কারণ শান্তিপ্রিয় জনতা আগুন সন্ত্রাস, নৈরাজ্য চান না। শান্তিতে বাঁচতে চান। তারা অশান্তির আন্দোলন নয়, উৎসবমুখর নির্বাচন চান। তাই সচেতন মানুষের আহ্বান সকল রাজনৈতিক দল জনতায় ভরসা রেখে নির্বাচনে অংশ নিবে এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী উৎসবের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

সর্বশেষ