22 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১

অনলাইন টিভি

Bangladesh
544,544
কোভিড-১৯ সর্বমোট আক্রান্ত
Updated on February 25, 2021 4:25 AM
Home কৃষি ও কৃষ্টি আদালতের নির্দেশ ক্ষোভের আগুনে তুষ ঢেলেছে- লড়াইয়ে অনড় ভারতের কৃষক

আদালতের নির্দেশ ক্ষোভের আগুনে তুষ ঢেলেছে- লড়াইয়ে অনড় ভারতের কৃষক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ টানা ৫০ দিন তুমুল লড়াইয়ের মধ্যদিয়ে ভারতের কৃষকরা প্রমাণ করল তারা কোনো অন্যায্য দাবিতে লড়াই করছে না। তাদের এ লড়াই ন্যায়সঙ্গত। কারণ দেশটির সর্বোচ্চ আদালত নয়া তিন কৃষি আইনের বাস্তবায়ন স্থগিত করেছেন। একইসাথে আইনের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার জন্য চার সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করেছে উচ্চ আদালতের সুপ্রিমকোর্ট ডিভিশন। কিন্তু এই রায়ে কী আন্দোলনরত কৃষকরা সন্তুষ্ঠ? ‘না’। কৃষকরা মোটেও খুশি হয়নি, উল্টো আদালতের নির্দেশনা কৃষকদের ক্ষোভের আগুনে তুষ ঢেলেছে। সেই আগুন জ্বলেছে ‘লোহরি’ উৎসবে। ভারতের ২০ হাজার স্থানে এই উৎসবে নয়া কৃষি আইনের কপি পুড়িয়ে কৃষকরা দাবি তুলেছে “স্থগিত নয়, আমরা কৃষকবিরোধী নয়া তিন কৃষি আইন বাতিল চাই”। তারা বলছেন, “আন্দোলন শেষ নয়, আরো তীব্র হবে। জীবন দিব, তবু কৃষক মারার এই আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি ফিরব না।” কেন্দ্রের সাথে নিষ্ফলা আলোচনায় কৃষক নেতারা বলেছেন, উচ্চ আদালত আইনের বাস্তবায়ন স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে কিন্তু আমরা তো স্থগিত চাই নি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনাকে স্বাগত জানাই। তবে আইনে স্থগিত নয়, আমরা বাতিল চাই।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর থেকে প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতের কৃষকরা তাদের স্বার্থবিরোধী তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে লড়াই করছেন। রাজধানী দিল্লী সীমান্তে রাস্তায় প্রতিবাদ করছে লাখো কৃষক। অন্যদিকে কৃষকের এই আন্দোলন দমাতে এমন কোনো পদক্ষেপ নেই যা মোদী সরকার করে নি। তীব্র শীতে জলকামানে ঠা-া জল ছিটিয়েছে, লাঠিচার্জ করেছে, রাবার বুলেট, কাঁদানি গ্যাস নিক্ষেপসহ অমানসিক নির্যাতন করেছে। ৭০ জন কৃষক মারা গেছেন, আত্মহত্যাও করেছেন। তারপরেও আন্দোলন থামাননি কৃষকরা। বলপ্রয়োগে ব্যর্থ হয়ে আলোচনার নামে প্রহসনের নাটক করেও কাজ হয় নি। অবশেষে আদালতের আশ্রয় নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আদালতকে বুঝিয়েছে এ আন্দোলন কেবল পাঞ্জাব হরিয়াণার কৃষকরা করছেন। কিন্তু কৃষক মোর্চার নেতারা বলছেন, এখনো দিল্লী সীমান্তে লক্ষ লক্ষ কৃষক বসে আছেন। ১৪ ডিসেম্বর থেকে জেলায় জেলায় ধরনা চলছে কেরালায়। পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে গ্রামে চলছে জাঠা। শত নিপীড়ণ সহ্য করে জেলায় জেলায় প্রতিবাদ করছেন ত্রিপুরার কৃষক। মিছিল করছেন বিহারের কৃষক। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছতিশগড়, ওডিশা, উত্তরাখ-, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্রে আন্দোলনে হাজারো কৃষক। দলে দলে অংশ নিচ্ছে আদিবাসীরা। তারপরেও কেন মোদীর এই মিথ্যাচার। অবশ্য আদালত মোদি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে। অবশেষে স্থগিত করেছে তিন নয়া কৃষি আইন। কিন্তু এই নির্দেশে খুশি হয় নি কৃষকরা। র্মোচার নেতারা বলছেন, আমরাতো আদালতে যায় নি। মোদি গেছেন, তাই কেন্দ্রের ভালো হয়েছে।
আদালতের নির্দেশের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়ে কৃষক নেতারা বলছেন, মোদি কর্পোরেট স্বার্থে নয়া কৃষি আইন করেছেন, তাই শত আন্দোলনের পরেও তিনি তার অবস্থানেই আছেন। কিছু ধারার সংশোধন করে মোদি সরকার এই আইনের বাস্তবায়ন চায়। আদালত সেটাই করেছে। আমরা কমিটি গঠন করে আইনের সংশোধন নয়, পুরোপুরি আইন তিনটির বাতিল চাই।
তারা বলছেন, আদালত এই নির্দেশের মাধ্যমে কৃষকদের গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ লড়াইকে সম্মান করেছেন। আন্দোলনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের ভিত্তিহীন অভিযোগ খারিজ করে প্রমাণ করেছে আমাদের দাবির গ্রহণযোগ্যতা আছে। অতএব কৃষকরা তখনই ঘরে ফিরবে যখন এই গণবিরোধী তিন আইন বাতিল করা হবে।

সর্বশেষ

সর্বশেষ মন্তব্য