ইরান কি সামরিক সক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবিলা করতে পারবে : খামেনিকে যুক্তরাষ্ট্র ধরে নিয়ে যাবে নাকি ট্রাম্পকে ইরান ধরে নিয়ে আসবে : ইজরায়েল ইরানের রেজিম চেইঞ্জ চায়: তার সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা : ইরানের অভ্যন্তরে আন্দোলন স্থীমিত: আন্দোলন কি সত্যিই মোসাদ, পাহলভি এবং পশ্চিমাদের ইন্ধনে হচ্ছে : ইরানের খামেনির কর্তৃত্ব কি ক্ষীয়মান : ইরানের সমস্যা কি নাগরিকের অধিকার নাকি যুক্তরাষ্ট্রের দশকের পর দশকের অবরোধের দূর্গতি: ইরানের পারমাণবিক শক্তি অর্জনের আকাঙ্খা এবং তার ইজরায়েল বিরোধী অবস্থানই কি তার সার্বভৌমত্ব হরণ করতে চায় পশ্চিমারা: বহু প্রশ্ন বহু উত্তর!
এখন অনেকেই প্রশ্ন করেন যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই ইরানকে আক্রমণ করবে নাকি ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মতো খামেনিকে ধরে নিয়ে আসবে? এর উত্তর গনকের মতো দেওয়া যাবে না। একটা আশঙ্কা আছে কারণ যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী পারস্য উপসাগরে টহল দিচ্ছে। ইরান তার প্রতি- পরিকল্পনা হিসেবে পারস্য উপসাগরে রাশিয়া চীনের সাথে নৌ মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে। আর তার সকল ক্ষেপণাস্ত্র জলের তলা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রণতরীকে তাক করে প্রস্তুত রেখেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইরান হুমকির বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়া একটা ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। তারমানে প্রতীকী অর্থে যুদ্ধের বিউগল বেজেছে। তবে ক্ষীণ আশা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনায় বসছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তান্তর করতে হবে। খামেনীকে পরিবর্তন করতে হবে এবং বিক্ষোভকারীদের প্রাণদণ্ড দেওয়া যাবে না। আর সেই তেল। তেল বিক্রি করা যাবে না। এবার মূল কথায় আসা যাক। ইরানের অর্থনৈতিক দূরাবস্থা কেন? এককথায়, ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে নানা ছলছুতায় অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব। ইস্যু দুটি বা তিনটি। এক, বৃটিশ তেল কোম্পানির সম্পদ জাতীয়করণ। দুই, ইজরায়েলের স্বার্থে ইসলামি শাসকদের নীতি পরিবর্তন, শাসক পরিবর্তন এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিভারসাম্য রাখা।
এই সব উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে আসছে।অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতি এখন ভেঙে পড়েছে। দারিদ্র্য ও কাজের অভাব নানা বিক্ষোভ তৈরি করে। ইরানেও তাই হচ্ছে। এছাড়া, ইরানের কট্টর শরিয়া আইনের প্রয়োগের কারণে নারীসহ সংখ্যালঘুদের উদ্বেগ ও বিদ্রোহ। ইরানের কট্টর শরিয়া আইনের বিরুদ্ধে প্রবাসী ইরানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ আছে। এখানে কাজ করছে পশ্চিমা মানবাধিকার ধারণার সাথে ইরানের শরিয়া আইনের বিরোধকে একটা তাত্ত্বিক কাঠামোয় নিয়ে আসতে। ইরানের শিয়াপন্থী শরিয়া আইনের পক্ষে এবং বিপক্ষে ইরানি ও পশ্চিমারা বিভক্ত।কিন্তু এগুলোকে কাজে লাগাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব তাদের পরিকল্পিত রেজিম চেইঞ্জের জন্য। এতে ইরানের তেল তাদের দখলে আসবে এবং ইজরায়েলের গণহত্যা এবং প্রভাব জায়েজ এবং নিরাপদ হবে।
তাই ইরানের সমস্যা সরলভাবে শুধু গণতন্ত্র বনাম মানবাধিকার বা মুক্তি নয়। এটার সাথে জড়িয়ে আছে পশ্চিমা বিশ্ব, ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের স্বরূপ। এটাকে বাদ দিয়ে যাঁরা ইরানের বিরুদ্ধে শরিয়া বনাম গণতন্ত্র হিসেবে দেখেন তাঁরা রেজিম চেইঞ্জের নামে পশ্চিমা ফাঁদে পা দিবেন। যাইহোক, ইরানের সামরিক শক্তি যাইহোক, ইরানকে কূটনৈতিক দক্ষতা এবং নিজের জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার উপর জোর দিতে হবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের স্বরূপ উন্মোচন করে তার বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলা দরকার। যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিমা বিশ্ব ও ইজরায়েলকে থামাতে হবে এবং সাম্রাজ্যবাদী হেজেমনিকে চ্যালেন্জ করেই তা থামাতে হবে। বিশ্বজনমতই কেবল ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপকে থামাতে পারে।
লেখক- শরীফ শমশির
লেখক ও গবেষক



