প্রচ্ছদসীমানা পেরিয়েতৃণমূল কংগ্রেসের ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান নিয়ে আক্রমণ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

তৃণমূল কংগ্রেসের ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান নিয়ে আক্রমণ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের আগে প্রচারে নেমে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান নিয়ে আক্রমণ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনামলে রাজ্যে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রবিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকায় জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মা কাঁদছে, মাটি অনুপ্রবেশকারীদের দখলে, আর মানুষ ভয়ে আছে।’ মোদির অভিযোগ, তৃণমূল তাদের নিজস্ব স্লোগানকেই বিসর্জন দিয়েছে।

তৃণমূলকে আক্রমণ করে মোদি বলেন, মমতা সরকারের আমলে রাজ্যে নারীদের সুরক্ষা নেই। তিনি আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা এবং কামদুনির ২০ বছর বয়সী তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। এছাড়া পার্ক স্ট্রিট, হাঁসখালি, কসবা এবং দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনাগুলোও তার বক্তব্যে উঠে আসে। মোদি দাবি করেন, ‘এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যেখানে স্কুল বা কলেজে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে অথবা নারীরা কর্মস্থলে হয়রানির শিকার হয়েছেন। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তৃণমূল নেতারা জড়িত।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই নির্দয় সরকার অপরাধীদের সুরক্ষা দেয় এবং উল্টো মেয়েদেরই দোষারোপ করে। ৪ মে-র পর তৃণমূলের প্রতিটি গুণ্ডা, প্রতিটি অত্যাচারী এবং প্রতিটি দুর্নীতিবাজের হিসাব নেওয়া হবে।’

পশ্চিমবঙ্গের নারীরা দীর্ঘদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান সমর্থক হিসেবে পরিচিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নারীদের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর মতো একাধিক প্রকল্প এবং মুক্তির আলো প্রকল্পের মাধ্যমে ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছেন, যা নারীদের শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করে তুলেছে। এই নারীরা এখন রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক শক্তির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন, যা তৃণমূলের বড় ভোটব্যাঙ্ক। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে সন্দেশখালির ঘটনায় নারীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই বিজেপি এই ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করে প্রচার চালাচ্ছে।

মোদি দাবি করেন, ‘বাংলার প্রতিটি বোন ও মেয়ে এখন এই নির্দয় তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং প্রথম দফার ভোটেই তার ইঙ্গিত মিলেছে।’উল্লেখ্য, প্রথম দফায় বাংলায় ৯১ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। বিজেপি ও তৃণমূল উভয় দলই দাবি করছে এই বিপুল ভোট তাদের পক্ষেই গেছে। আগামী ২৯ এপ্রিল নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং ৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে।
সুত্র- এনডিটিভি

সর্বশেষ