29 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২

অনলাইন টিভি

Bangladesh
2,024,489
কোভিড-১৯ সর্বমোট আক্রান্ত
Updated on September 29, 2022 11:38 PM
Homeজাতীয়ফসলী জমির রক্ষার আন্দোলনে কৃষক : উত্তপ্ত খুলনার দাকোপ

ফসলী জমির রক্ষার আন্দোলনে কৃষক : উত্তপ্ত খুলনার দাকোপ

নতুন কথা রিপোর্ট : ফসলী জমি রক্ষায় উত্তপ্ত হয়ে খুলনার দকোপ উপজেলা ও বাগেরহাটের মোংলা। মোংলা বন্দরে প্রায় ৮ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ের চলমান ইনার বার ড্রেজিং প্রকল্প নিয়ে এ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। নদী থেকে উত্তালিত বালু নিয়ম ভঙ্গ করে অপরিকল্পিতভাবে কৃষি জমিতে ফেলায় সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মোংলার পশুর নদীর তীরের খুলনার দাকোপ উপজেলার বাণীশান্তা চিলা ইউনিয়ন জমির মালিকদের অভিযোগ, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারী চায়না প্রতিষ্ঠান নিয়ম নীতিকে কোন তোয়াক্কা না করে বালু ফেলার নামে মারাত্মক পরিবেশ দুষণ ঘটাচ্ছে।

বানীশান্তবাসীর অভিযোগ, তিন ফসলী জমিতে পশুর নদের ড্রেজিং করা মাটি ফেলার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানিয়ে বলেন, বাণীশান্তার ৩০০ একর তিন ফসলী উর্বর কৃষিজমি ৫টি গ্রামের প্রায় ১২০০ পরিবার তাদের জীবন ও জীবিকার জন্য সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল।

বংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোও তিন ফসলী জমিতে বালু ভরাটের নিন্দা জানিয়ে আসছে।

পশুর নদ খননে উত্তোলিত বালু ফেলা নিয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা ইউনিয়নের এলাকাবাসী মুখামুখি অবস্থানে রয়েছে। বন্দর সচল রাখতে পশুর নদ খননের কাজ চলছে। সেখান থেকে উত্তোলিত বালুর একটি অংশ ফেলা হয়েছে মোংলার চিলা এলাকার জমিতে। বাকি বালু খুলনার দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা ইউনিয়নের ৩০০ একর কৃষিজমিতে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে; যা ওই এলাকার মানুষ চায় না।

স্থানীয়রা বলছেন, কৃষি জমিতে বালু ফেললে ফসল উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির শিকার হতে হবে তাদের। তিন ফসলি জমি ‘পতিত’ হওয়ার পাশাপাশি কৃষি-নির্ভর হাজারো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ কারণে এলাকাবাসী মিছিল-সমাবেশের পাশাপাশি রাত জেগে জমি পাহারা দিচ্ছে যাতে জমিতে বালু ফেলতে না পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এখানে বালু ফেলার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর তারা আন্দোলন-সংগ্রাম করলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ হুকুম দখল করা জমিতে বালু ভরাট করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

হুকুম দখলের প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রশাসন থেকে কৃষকদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামালসহ একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসার খবরে বানিয়াশান্তা ইউনিয়নের কয়েকশ নারী-পুরুষ সমবেত হন সেখানে। গ্রামবাসীর তোপের মুখে এক পর্যায়ে তারা পিছু হটেন।
এলাকাবাসী জানান, গত ২৮ জুলাই বন্দরের লোকজন হুকুম দখলের জন্য ওই জমিতে সাইনবোর্ড বসাতে গেলে এলাকাবাসীর প্রতিরোধে তা ব্যর্থ হয়। ৯ অগাস্ট বানিশান্তার আমতলা ক্যাম্প এলাকার গ্যাস ফ্যাক্টরি ঘাট দিয়ে খননযন্ত্র তোলার চেষ্টা করা হয়। ওই সময়ও বাধার মুখে তা পাড়ে তুলতে পারেননি বন্দরের লোকজন।

বানিশান্তা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুদেব কুমার রায় বলেন, বানিশান্তার কৃষিজমিতে আষাঢ থেকে পৌষ মাস পর্যন্ত আমন ধান, পৌষ থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত তরমুজ, বৈশাখ থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত আউশ ধান ও অন্যান্য রবি ফসলের চাষ হয়।

“এ জমিতে পশুর নদ খননের বালু ফেললে এলাকার অন্তত ৫ গ্রাম – বানিশান্তা, আমতলা, ভোজনখালি, খাজুরা ও ঢাংমারির মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
সুদেব বলেন, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বিকল্প হিসেবে খানজাহান আলী বিমানবন্দরের জায়গা, মোংলা বন্দরের নিজস্ব জায়গায় বালু ফেলতে পারে। কিন্তু তারা তা করছে না। আমরা প্রথম থেকেই এর প্রতিবাদ করছি। কৃষক ও কৃষির স্বার্থে এই প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

খুলনা জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে জানা গেছে, খনন প্রকল্পটি ২০২০ সালের জানুয়ারিতে একনেকে অনুমোদন হয়। প্রকল্পের আওতায় পশুর নদ থেকে প্রায় ২১৬ লাখ ঘনমিটার মাটি ও বালু উত্তোলনের কথা।
বন্দরে পর্যাপ্ত জমি না থাকায় এই মাটি, বালু দাকোপ ও মোংলা উপজেলার বিভিন্ন খাস ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে ফেলতে চায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর জন্য মোংলার ৭০০ একরের বাইরে দাকোপের বানিশান্তা ইউনিয়নের ৩০০ একর জমির প্রয়োজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের নভেম্বরে খনন প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বানিশান্তা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে মাটি ফেলার জন্য জমি হুকুম দখলের জন্য অনাপত্তির বিষয়ে চিঠি দেয়।

দাকোপের ইউএনও মিন্টু বিশ্বাস ওই জমিকে কৃষিজমি হিসেবে উল্লেখ করে সার্বিক বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠান।
এ বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের পক্ষে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা হুকুম দখলের নোটিস দিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মালিকদের জমির দখল হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। তবে সেই নোটিশ গ্রহণ না করে কৃষকরা বিক্ষোভ করেন। খুলনা জেলা প্রশাসন হুকুম দখলের জমি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে।

ওদিকে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, খুলনা জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক খুলনার দাকোপ উপজেলার বাণীশান্তার তিন ফসলী জমিতে পশুর নদের ড্রেজিং করা মাটি ফেলার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানিয়ে বলেন, বাণীশান্তার ৩০০ একর তিন ফসলী উর্বর কৃষিজমি ৫টি গ্রামের প্রায় ১২০০ পরিবার তাদের জীবন ও জীবিকার জন্য সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা মোংলা বন্দরের উন্নয়নে বিশ্বাসী, সে কারণে পশুর নদ ড্রেজিংয়ের বিপক্ষে নয়। ফসলী জমির পরিবর্তে ড্রেজিংয়ের মাটি বিকল্প জায়গা হিসেবে প্রস্তাবিত ইপিজেড এলাকা অথবা খানজাহান আলী বিমান বন্দরের প্রস্তাবিত এলাকায় ফেলা যেতে পারে। আমরা আশা করি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বাণীশান্তার কৃষি জমি সুরক্ষিত রেখেই কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিবৃতিদাতারা হলেন খুলনা জেলা সভাপতি কমরেড এড. মিনা মিজানুর রহমান, মহানগর সভাপতি কমরেড শেখ মফিদুল ইসলাম, জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড আনসার আলী মোল্লা, মহানগর সাধারণ সম্পাদক কমরেড এস এম ফারুখ-উল ইসলাম, জেলা ও মহানগর সম্পাদকমÐলীর সদস্য যথাক্রমে কমরেড দেলোয়ার উদ্দিন দিলু, কমরেড গৌরাঙ্গ প্রসাদ রায়, কমরেড শেখ মিজানুর রহমান, কমরেড মনির আহমেদ, কমরেড খলিলুর রহমান, কমরেড আব্দুস সাত্তার মোল্লা, কমরেড নারায়ণ সাহা, কমরেড আমিরুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য কমরেড মনিরুজ্জামান, কমরেড সন্দীপন রায়, কমরেড রেজাউল করিম খোকন, কমরেড আঃ হামিদ মোড়ল, কমরেড কৌশিক দে বাপী, কমরেড মোঃ আলাউদ্দিন, কমরেড মনির হোসেন, কমরেড বাবুল আখতার, কমরেড আরিফুর রহমান বিপ্লব, কমরেড শেখ সেলিম আখতার স্বপন, কমরেড অজয় দে, কমরেড এড. কামরুল হোসেন জোয়ার্দ্দার, কমরেড হাফিজুর রহমান, কমরেড গৌরী মÐল, কমরেড ফারুখ মাস্টার, কমরেড সাইদুল ইসলাম, কমরেড কৃষ্ণ কান্তি ঘোষ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

সর্বশেষ