শুক্রবার,১২,এপ্রিল,২০২৪
34 C
Dhaka
শুক্রবার, এপ্রিল ১২, ২০২৪
Homeরাজনীতিফিলিস্তিন ইস্যুতে নীরব কেন বিএনপি-জামাত-হেফাজত ???

ফিলিস্তিন ইস্যুতে নীরব কেন বিএনপি-জামাত-হেফাজত ???

নতুন কথা প্রতিবেদন ॥ ফিলিস্তিনে ইসরাইলি আগ্রাসন ও মানবিক বিপর্যয়ে বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে মানবতাবাদীরা প্রতিবাদের ঝড় তুললেও নীরব ভূমিকা পালন করছে বিএনপি-জামাত। এই ইস্যুতে তারা রাজপথে বিক্ষোভ, সমাবেশ তো দূরের কথা বিবৃতি পর্যন্ত দেয় নি। এমনকি বাংলাদেশে ধর্ম গেলে গেল বলে যারা রাজপথে ঝড় তুলে সেই হেফাজতে ইসলাম ফিলিস্তিনের নির্মম গণহত্যায় চুপচাপ রয়েছে। নীরব ভূমিকা পালন করছে বিএনপি-জামাত ঘরনার অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলো। ফিলিস্তিনে বোমার আঘাতে নিষ্পাপ শিশুর দেহ ছিন্নভিন্ন কিংবা খাদ্য, পানি ও বিদ্যুতের অভাবে অবরুদ্ধ গাজা মৃত্যুকুপে পরিণত হলেও বিএনপি-জামাত, হেফাজত’সহ আরো কিছু ইসলামপন্থী দল কেবল নীরব’ই নয়, একেবারে মুখে কুলুপ এঁটেছে। তবে গত সপ্তাহে রাজধানী ঢাকায় কিছূ ইসলামপন্থী দল প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। প্রশ্ন হলো ফিলিস্তিন ইস্যুতে বিএনপি-জামাত ও হেফাজত কেন নীরব? বিশ্লেষকদের মন্তব্য ক্ষমতার হিসাব-নিকাশের এই চরম মূহুর্তে তারা কোনোভাবেই ইসরাইলের প্রধানমিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রের বিরাগভাজন হতে চায় না। সে কারণেই এই নীরবতা।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে রাজপথে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, শান্তি পরিষদ, সিপিবি, কিছু কিছু ইসলামি দলও মিছিল করেছে। ফিলিস্তিনের উপর ইসরাইলি নিপীড়ন বন্ধের জন্য বিশ্ব নেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসান মাসুদ। কিন্তু নীরব বিএনপি। কেবল দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (৯ অক্টোবর) সোশ্যাল হ্যান্ডেল এক্স-এ টুইট করেছেন। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে দলের নেতৃত্বে থাকা নেতারা একেবারেই চুপ।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা ও দায়িত্বশীলরা বলছেন, প্রথমত ফিলিস্তিন ইস্যুটি আন্তর্জাতিক। এই ইস্যুতে দলের চেয়ারম্যানের টুইটটিই দলের অবস্থানকে তুলে ধরেছে। দ্বিতীয়ত, বিএনপি দেশের উদার গণতান্ত্রিক দল, কোনো ধর্মভিত্তিক দল নয়। এক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে ইস্যুটিকে ফেস করতে হচ্ছে।
গণমাধ্যমকে বিএনপি নেতারা আরো বলেছেন, ‘বিএনপি তো সরকারে নেই। বিষয়টিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখার দায়িত্ব সরকারের। উদার গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপি সুনির্দিষ্ট কোনো ধর্মের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেবে না। পাশাপাশি ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গভীর সুসম্পর্কের কারণে কোনোভাবেই বিতর্কিত কোনো অবস্থান নেবে না বিএনপি।’
দলের বিদেশ বিষয়ক সূত্রগুলো জানায়, মূলত যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে বিএনপি নতুন করে নিজেদের উদার গণতান্ত্রিক দল হিসেবে উপস্থাপন করায় ফিলিস্তিন ইস্যুতে পশ্চিমাদের পলিসি অনুসরণ করছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এ কারণে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজে পক্ষে-বিপক্ষে না থেকে নৈর্ব্যক্তিক অবস্থান থেকে বিবৃতি দিয়েছেন। দলের ডানপন্থি অংশের নেতারা বিষয়টিকে সহজভাবে না নিলেও তারাও প্রকাশ্যে কুলুপ এঁটেছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘কাউকে খুশি বা অখুশি করার জন্য নয়, ফিলিস্তিন ইস্যুতে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য রেখেছেন। তার পজিশন থেকে তিনি যা বলেছেন, সেটাই দলের অবস্থান। অন্য কারো ব্যক্তিগত মতামত এখানে গ্রহণযোগ্য নয়।’
এই ইস্যুতে জামাতে ইসলামও মানে নামেনি, কিংবা কোনো বিবৃতিও দেয়নি। অন্যদিকে, কথায় কথায় ধর্মের দোহাই দিয়ে হরতাল, অবরোধ ডেকে অস্থিরতা সৃষ্টি করলেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে মাঠে নেই হেফাজত। ইসলামের কথা বলে তারা একের পর এক ব্যক্তির ফাঁসির দাবি তুলছেন, ইসলামের শত্রু বলছেন, সেই হেফাজত নেতারা ফিলিস্তিনে এমন বর্বরতার প্রতিবাদ করছেন না। বরং নিজেদের ‘অরাজনৈতিক’ দাবি করে হেফাজতের কোনো নেতা বলছেন, ‘হেফাজত রাজনৈতিক সংগঠন নয়, তাই এ বিষয়ে কোনো কর্মসূচী দেয়ার কারণ নেই। আমরা দেশবাসীকে বলব, সকল ইহুদী শক্তির কাজ থেকে দূরে থাকতে।’ দেশবাসী দূরে থাকবে আর তারা কৌশলি ভূমিকায় থাকবে!-বলছেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদরা। তাদের এমন কর্মকা-কে ইসলামের সঙ্গে দুশমনী অভিহিত করে বিভিন্ন ইসলামী দল ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেছেন, “এরা আসলে ইসলামের নামে অপরাজনীতি করে, ব্যবসা করে। ওদের কাছে ইসলাম হচ্ছে অপরাজনীতির হাতিয়ার।” তারা বলছেন, “হেফাজত-জামাতীরা তখনই মাঠে নামে যখন বিএনপি-জামাত যুদ্ধাপরাধীদের স্বার্থ রক্ষা হয়।”
হেফাজত-জামাতীদের চুপ থাকার বিষয়ে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগার ইমাম খতিব আল্লামা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলছেন, “ওই সব দলের চুপ থাকারই কথা। এরা তো আসলে ইসলামের নামে অপরাজনীতি করে, ব্যবসা করে। ওদের কাছে ইসলাম হচ্ছে অপরাজনীতির হাতিয়ার। হেফাজত-জামাতীরা তখনই মাঠে নামে যখন বিএনপি-জামাত যুদ্ধাপরাধীদের স্বার্থ রক্ষা হয়। এখন তারা কথা বলবে না, তাতে ইসলামের যতই ক্ষতি হোক। এটাই ওসব দলের চরিত্র।”
আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মন্তব্য মার্কিন ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের খুশি রাখতেই বিএনপি-জামাত, হেফাজত ও তাদের দক্ষিণপন্থী মিত্রদের এই নীরবতা।

সর্বশেষ