32 C
Dhaka
শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

অনলাইন টিভি

Bangladesh
1,541,300
কোভিড-১৯ সর্বমোট আক্রান্ত
Updated on September 18, 2021 7:44 PM
Homeসম্পাদকীয়মুক্তমতবাংলাদেশে একটি ধর্মজীবী শ্রেণী তৈরি হয়েছে

বাংলাদেশে একটি ধর্মজীবী শ্রেণী তৈরি হয়েছে

আগেই বলেছি, বাংলাদেশে একটি ধর্মজীবী শ্রেণী তৈরি হয়েছে, দেশী বিদেশী অনেক শক্তির যৌথ প্রযোজনায়। মাদ্রাসাসমূহ এদের কেবল আয়ের উৎস নয়, কর্মী সরবরাহের প্রতিষ্ঠানও। এরা এখন একটি রাজনৈতিক শক্তি। এরা একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক আন্দোলন, যাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সামরিক শাখা রয়েছে। এদের রাজনীতির সামরিক রূপ আমরা দেখেছি ১৯৭১ সালে, এরপর ৯০ এর দশক থেকে জঙ্গি কার্যক্রমে, এরপর সম্প্রতি মব-ভায়োলেন্সে। এদের সাংস্কৃতিক আধিপত্য হিজাবে ও শুক্রবারের মুসলমানিত্বে, বাঙ্গালী সংস্কৃতির বিরোধিতায়। এরা মুক্তিযুদ্ধের সকল অর্জনের বিপক্ষে। ওয়াজমাহফিল ছিল এদের রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ওয়াজে এরা মূলত সেক্যুলার দলের নেতাদের মত বক্তৃতা দেয়। এভাবে এদের সামাজিক নেতৃত্ব দক্ষতাও বেড়েছে। এরা নানা ধরনের প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে বিবর্তিত হচ্ছে, রাষ্ট্রক্ষমতার লক্ষ্যে। সহায়তা পেয়েছে, ক্ষমতার বাইরের এবং ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলের। আমলাতন্ত্রের মধ্যেও এদের সমর্থক রয়েছে। মামুনুলের জবানবন্দিতে জানা যায়, এরা মনে করে যে, এরা আর কোন দলের পেছনে থেকে নয়, বরঞ্চ সামনে থেকেই রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিতে পারবে। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা একটি গুনগত পরিবর্তন। অর্থাৎ এরা দেশ চালানোর কল্পনা করছে। নিজেদের আওয়ামীলীগ বা বিএনপির চেয়ে যোগ্য মনে করছে। এদের ধারনা, এরাও মন্ত্রী হয়ে আমলাদের দিয়ে দেশ শাসনের কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। সরকার বা নীতিনির্ধারকেরা, যদি মনে করেন, এই শক্তিকে “অরাজনৈতিক” উলেমা হিসেবে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে পারবেন, আগের মত, সেটা ভুল। এদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। কৃটিকালমাস বলে একটি ব্যাপার আছে। সমাজে ও প্রশাসনে যদি এদের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক সমর্থক তৈরি হয়, এরা রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতেও পারে। তাহলে, আমরা আনুষ্ঠানিক ভাবেই একটি তালেবানী বাংলাস্থান দেখবো। সশস্ত্র সংগঠিত দশ পারসেন্ট লোকই একটি সমাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এই শক্তিটির প্রতিষ্ঠান রয়েছে, অস্ত্র প্রশিক্ষণ আছে, কানেকশন রয়েছে, টাকা রয়েছে, সামাজিক প্রভাব রয়েছে, এবং জানা গেল যে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের ইচ্ছাও রয়েছে। রাষ্ট্র দখলের ইচ্ছে এমন একটি উপাদান, যা বাংলাদেশের রাজনীতির মানচিত্র বদলে দিতে পারে। যারা ভাবছেন, আপনারা বাদশাহি করবেন, আর উলেমারা আপনাদের সহযোগী হবে, সেই বাস্তবতা বদলে গেছে। চাপ দিয়ে কিছুদিন “সহযোগী” রাখতে পারবেন, কিন্তু দীর্ঘকাল পারবেন না, যদি এদের প্রতিষ্ঠানিক বিকাশ অব্যাহত থাকে। যে প্রতিষ্ঠানিক বিকাশ আপনারা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় অব্যাহত রাখতে চান। যদি কখনো সেই দুঃস্বপ্নের দিন আসে, তাহলে ক্ষমতায় আসীন ও ক্ষমতার বাইরের সেক্যুলার রাজনীতিবিদ ও আমলারা হবেন এদের প্রথম টার্গেট। ভাবুন, এবং ভেবে সিদ্ধান্ত নিন। আপনাদের হাতে এখনো অনেক অপশন আছে। ভবিষ্যতে হয়তো তা থাকবেনা।

লেখকঃ খান আসাদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

সর্বশেষ