ইরানে ইসরাইল আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে—বিশেষ করে গাজা, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততাকে ঘিরে—তাকে আলাদা আলাদা ঘটনা হিসেবে দেখলে গোটা পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। একে দেখতে হবে ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সামরিকায়নের সামগ্রিক বিচারে।
এই সংকট মূলতঃ তিনটি গভীর কাঠামোগত স্তরের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—এটা বোঝা যায়। আর সেগুলো হলো
১. সাম্রাজ্যবাদী ভূরাজনীতি ও সামরিকীকরণ
২. আঞ্চলিক রাষ্ট্রক্ষমতা ও কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা
৩. জনতার প্রতিরোধ, শ্রেণির রাজনীতি ও পরিবর্তনশীল জনমত
মধ্যপ্রাচ্য পৃথিবীর অন্যতম সামরিকীকৃত অঞ্চল।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে প্রায় ৪০,০০০ থেকে ৫০,০০০ সৈন্য মোতায়েন করে রেখেছে। কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও সিরিয়ায় বড় বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
পশ্চিমের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচারে এটাকে বলা হয় একটি নিরপেক্ষ “নিরাপত্তা রক্ষা” ব্যবস্থা হিসেবে । আসলে কি তাই? বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক আধিপত্য। এখানে সামরিক শক্তি রাজনৈতিক অবস্থাকে প্রভাবিত ও নির্ধারণ করে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী বার্ষিক সামরিক ব্যয়ের হিসেব দেখলে দেখা যায়,
যুক্তরাষ্ট্র এর ব্যয় প্রায় ৮৭৭ বিলিয়ন ডলার, ইসরায়েল প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার ( যা জনসংখ্যা অনুযায়ী খুবই বেশি), সৌদি আরব প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার এবং ইরান আনুমানিক ১০–১৫ বিলিয়ন ডলার। হিসেব দেখলেই বোঝা যায় সামরিক শক্তির হিসেবে
এই বৈষম্যটা কতটা বিরাট। অঞ্চলটি আসলে গড়ে উঠেছে—
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী বৈশ্বিক সামরিক প্রাধান্যে, ইসরায়েলের উন্নত প্রযুক্তি ও গুণগত সামরিক সুবিধা, উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর উচ্চপ্রযুক্তির অস্ত্র কেনা ও একে মোকাবিলা করা ইচ্ছা ও আকাংখা নিয়ে ইরানের অসম সামরিক কৌশল।
এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই বিপুল সামরিক ব্যয় জনগণের সম্পদ গ্রাস করে। যে অর্থ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু অভিযোজন ও সামাজিক কল্যাণে ব্যয় হতে পারত, তা চলে যায় অস্ত্রভাণ্ডারে।
এখানে বলা ভালো অনেক সময়ই ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সংঘাতকে প্রায়ই দুই সমান পক্ষের লড়াই হিসেবে তুলে ধরা হয়। যা সম্পূর্ণ ভুল। কোন যৌক্তিক বিশ্লেষণ এই ধারণাকে সঠিক মনে করতা পারে না।
জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে দীর্ঘস্থায়ী দখলদারিত্ব, বসতি সম্প্রসারণ এবং গাজা অবরোধের কথা বলা হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে বর্ণবাদমূলক ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনাও করা হয়েছে, যদিও এই শব্দ নিয়ে অনেক রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। কিন্তু, গোটা ব্যবস্থার মধ্যেই রয়েছে এক কাঠামোগত বৈষম্য ।
যুক্তিগ্রাহ্যভাবেই এই কাঠামোগত বৈষম্যের মধ্যে রয়েছে – সামরিক দখল, নতুন করে বসতি স্থাপন, ভূমি, পানি ও সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ, চলাচল ও বাণিজ্যে বিধিনিষেধ
সাম্প্রতিক গাজা যুদ্ধগুলোতে হতাহতের অসাম্য স্পষ্ট। ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও অবকাঠামো ধ্বংস অনেক বেশি হয়েছে। তাই এটা কখনোই সমশক্তির মধ্যে ক্ষমতার লড়াই নয়। এটি একটি আধিপত্যবাদী আগ্রাসন। সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ও অবরোধ মিলিত হয়ে এটা এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে। মূল প্রশ্ন শুধু নিরাপত্তা নয়; এর গভীরে রয়েছে নিয়ন্ত্রণ ও বঞ্চনার এক দীর্ঘ ইতিহাস।
নিষেধাজ্ঞা ও আঞ্চলিক শক্তির রাজনীতির গভীরে রয়েছে আধিপত্যের এক রাজনৈতিক অর্থনীতি। আঞ্চলিক রাজনীতিতে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং তার রয়েছে এক সুকৌশল আঞ্চলিক সামরিক নীতি। তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রচলিত যুদ্ধে জড়াতে চায় না। বরং নির্ভর করে— হিজবুল্লাহ ও ইরাকি মিলিশিয়ার মতো মিত্র গোষ্ঠীর ওপর, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ কৌশল ও অসম নৌযুদ্ধ কৌশলের উপর।
ইরান সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী প্রগতিশীল চিন্তাবিদদের সমালোচনা দ্বিমুখী। এই দৃষ্টিতে- প্রথমত, ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করা হয়। কারণ এই নিষেধাজ্ঞা তেল রপ্তানি সীমিত করেছে এবং ইরানকে আর্থিকভাবে বিচ্ছিন্ন করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের সাধারণ জনগণের ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থায় প্রভূত ঘাটতি তৈরি করে যা মূলতঃ ইরানি জনগণের উপর এক মানবিক বিপর্যয় তৈরি করে। দ্বিতীয়ত, আবার অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ কর্তৃত্ববাদ ও ভিন্নমত দমনের সমালোচনাও করা হয়। সব মিলিয়ে তাই দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞা কঠোরপন্থীদের শক্তিশালী করে, কিন্তু সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বৈশ্বিক আধিপত্যবাদী শক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই আচরণের একটা অন্তর্নিহিত নীতিগত অবস্থান রয়েছে-যাকে বলা হয় ‘সামরিক শিল্প জোট’। “সামরিক–শিল্প জোট” ধারণাটি প্রথম সতর্কবার্তা হিসেবে উচ্চারণ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডুইট ডি. আইজেনহাওয়ার এবং আজও তা প্রাসঙ্গিক।
এটা সবাই জানে মার্কিন বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানির মধ্যে রয়েছে—লকহিড মার্টিন, রেথিয়ন টেকনোলজিস ও নর্থরপ গ্রুম্যান। মার্কিন অস্ত্র হস্তান্তর নথির যে কোন প্রতিবেদনে দেখা যায়— ইসরায়েল বছরে প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা পায় এবং উপসাগরীয় দেশগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের উন্নত অস্ত্র কেনে। আর এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, দীর্ঘস্থায়ী এই অস্থিরতাই অস্ত্রের চাহিদা টিকিয়ে রাখে। সংঘাত থেকে প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো লাভবান হয়। উপরন্তু লবিং সংক্রান্ত তথ্যতে দেখা যায় যে, অস্ত্রখাত ও রাজনীতির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অতএব, পররাষ্ট্রনীতি শুধু কৌশল নয়; কর্পোরেট স্বার্থও সেখানে কাজ করে।
মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বৈশ্বিক এই অধিপত্যের প্রেক্ষিতে মার্কিন জনমতের এক ঐতিহাসিক ভূমিকা আছে, যা সবচাইতে বেশি দেখা গেছে ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রাক্কালে। সম্প্রতিকালেও যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের ভূমিকা প্রনিধানযোগ্য। এটা আজ বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের জনমত বদলাচ্ছে। গ্যালাপ ও পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে দেখা যায়, ১৮–৩৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি বাড়ছে। ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে বিভাজন আছে; প্রগতিশীল অংশ ইসরায়েলি সরকারের সমালোচনামুখর, রিপাবলিকান সমর্থকদের বড় অংশ ইসরায়েলের পক্ষে।
গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হলো—
(১) প্রজন্মগত পরিবর্তন (২) ইরাক ও আফগানিস্তানের পর যুদ্ধ ক্লান্তি (৩) ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি জাগানো ক্যাম্পাস আন্দোলন
এটা আজ নিঃসন্দেহে বলা যায়, অনেক আমেরিকান সাধারণ মানুষ এমনকি জেফরি স্যাক্স সহ বহু বুদ্ধিজীবি ও রাজনীতিকরাও এখন শর্তহীন সামরিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তারা বৈদেশিক সামরিক ব্যয়ের সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ বৈষম্যকে যুক্ত করে দেখছেন। যে কোন অঞ্চলের ভেতরে রয়েছে শ্রেণি ও সমাজ। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই ভূ-আঞ্চলিক বাস্তবতায় এটা দেখতে হবে এই শ্রেণি আর সমাজে
কে লাভবান আর কে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ? এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে, লাভবান হয়, নিরাপত্তা এলিট গোষ্ঠী, অস্ত্রশিল্প, আঞ্চলিক ধনিকগোষ্ঠী ও জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক। আর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দখলদারিত্বের নিচে থাকা এই অঞ্চলের ফিলিস্তিনি শ্রমজীবী মানুষ এমনকি অনিরাপত্তায় বসবাসকারী নিম্নআয়ের ইসরায়েলি জনগণ, নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত ইরানের শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অভিবাসী শ্রমিক। এটা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হবার প্রয়োজন নাই যে, বৃহৎ সামরিক বাজেট সব সময় কল্যাণনীতি, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জলবায়ু অভিযোজনকে পিছিয়ে দেয়। এটা পৃথিবীর সকল দেশের জন্যই প্রযোজ্য। তাই কাঠামোগত দ্বন্দের দৃষ্টিতে ও দ্বান্দ্বিক–ভৌতবাদী দৃষ্টিতে এই অঞ্চলের মূল দ্বন্দ্বগুলো হলো—
সামরিক আধিপত্য বনাম জনগণের সার্বভৌমত্ব
অস্ত্রনির্ভর পুঁজি সঞ্চয় বনাম সামাজিক কল্যাণ
জাতীয় নিরাপত্তার ভাষ্য বনাম মানবিক নিরাপত্তার বাস্তবতা।
মধ্যপ্রাচ্য যেন এক পরীক্ষাগার । এখানে রয়েছে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক পুঁজিবাদ, প্রক্সি যুদ্ধ, সামরিকীকৃত সীমান্ত, আবার একই সঙ্গে এটি—গণআন্দোলন, শ্রমিক সংগ্রাম, তরুণদের জাগরণ ও ডিজিটাল বিশ্বসংহতির ক্ষেত্র।
কিন্তু, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের মিত্রদের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও ইরানের উপর আক্রমন শুধুমাত্র এই অঞ্চলের বিষয় নয়। এটা তাদের বৈশ্বিক রণ্নীতির অংশ এটা বুঝতে হবে। এই অঞ্চলে তার আগ্রাসন যেমন আঞ্চলিক আধিপত্যের বিষয় তেমনি চীনসহ এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তেল ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ ও বাধাগ্রস্ত করাও এই আক্রমনের অন্য একটি লক্ষ্য যা তাদের এশীয় মাহাসাগরীয় রণনীতিকে সাহায্য করবে। সেটাই হয়তো এই অঞ্চলে তাদের মৌলিক লক্ষ্য। ভেনিজুয়েলায় মার্কিন পদক্ষেপ, কিউবার উপর চাপ, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রেজিম চেঞ্জ এর কোনটাই বিচ্ছিন্ন নয়। একটি সামগ্রিক চিত্রনাট্যের অংশ। তাই উপরিউক্ত বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে একটি মাত্র উপসংহারে আসা যায় যে, বিশ্বব্যাপী সকল গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল,শুভবুদ্ধিসম্পন্ন ও শান্তির অন্বেষার মানুষের এখন একটিই সুসংহত অবস্থান হতে পারে, যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই। তাই এই দাবীগুলি এখন ন্যায্যতার আলোকে বৈশ্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দাবি হতে পারেঃ
অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও বেসামরিক সুরক্ষা, অবরোধ ও সমষ্টিগত শাস্তির বিরোধিতা, আধিপত্যের আলোকে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃতি, আঞ্চলিক পারমাণবিক উত্তেজনা হ্রাস, সামরিক ব্যয় কমিয়ে সামাজিক উন্নয়নে বিনিয়োগ, বেসামরিক জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে সকল একতরফা নিষেধাজ্ঞার অবসান।
আগেই বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট শুধু আঞ্চলিক সংঘাত নয়। এটি এক বৃহৎ সংযোগস্থল—
যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক শক্তি
ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতি
ইরানের প্রতিরোধ কৌশল
উপসাগরীয় তেলভিত্তিক রাজতান্ত্রিক পুঁজিবাদ
ফিলিস্তিনিদের বঞ্চনার ইতিহাস
বৈশ্বিক সামরিক–শিল্প পুঁজির সঞ্চয়
প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি তাই কোন সংঘর্ষকেই সভ্যতার সংঘাতের গল্প বা কেবল সাম্প্রদায়িক ব্যাখ্যা গ্রহণ করে না। এটি অন্ধ নিরাপত্তাবাদও মানে না।
বরং এটি গুরুত্ব দেয়—
আন্তর্জাতিক আইন
সামাজিক ন্যায়
সামরিক নিরস্ত্রীকরণ
সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন
গণতান্ত্রিক সার্বভৌমত্ব ও সবশেষে সকল সম্পদের সামাজিক সম-বন্টনের । এটাই ইতিহাসের শেষ লক্ষ্য ও গন্তব্যস্থল।
এই দৃষ্টিতে স্থায়ী শান্তি কেবল সামরিক শক্তির মাধ্যমে আসতে পারে না। প্রয়োজন কাঠামোগত পরিবর্তন—রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক। প্রয়োজন মানুষের মর্যাদাকে কৌশলগত আধিপত্যের উপরে স্থান দেওয়া।
লেখক- অধ্যাপক ড.সুশান্ত দাস



