ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে নিজেদের সামরিক সরঞ্জামের মোতায়েন নতুন করে সাজাচ্ছে ওয়াশিংটন। এর অংশ হিসেবে ইউরোপের নিরাপত্তা বলয় থেকে বিপুল সংখ্যক প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের ফলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরান যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে পেন্টাগন, যার জন্য আরও ২০০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকে ইরান তুরস্কের দিকে বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে জার্মানি থেকে দুটি প্যাট্রিয়ট সিস্টেম তুরস্কে পাঠানো হয়।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা জানান, ইউরোপে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে। তার মতে, পরিস্থিতি এখন ‘বেশ উদ্বেগজনক’। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশিত অপারেশন এপিক ফিউরি’র লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ ও অস্ত্র মজুদ রয়েছে।
প্যাট্রিয়ট মূলত অত্যাধুনিক ক্রুজ মিসাইল বা হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে তুলনামূলক সস্তা এবং নিম্নপ্রযুক্তির ইরানি শাহেদ ড্রোন ভূপাতিত করতে এই দামি প্যাট্রিয়ট ব্যবহার করা হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা একে ‘অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্যাট্রিয়ট মূলত হিমার্স–এর মতো উচ্চ প্রযুক্তির সমরাস্ত্র রক্ষায় ব্যবহার করা উচিত। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইউরোপ থেকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ায় সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে মস্কো। ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও বাল্টিক দেশগুলোতেও রুশ ড্রোনের অনুপ্রবেশ ঘটছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরান যুদ্ধের কারণে কিয়েভ নিশ্চিতভাবেই প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটে পড়বে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র বছরে ৭০০ থেকে ৮০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে, অথচ ইরান যুদ্ধের প্রথম দিনেই ৮০৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। নিরাপত্তা বিষয়ক থিংক ট্যাংক ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট–এর তথ্যমতে, যুদ্ধের প্রথম ৯৬ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩২৫টি প্যাট্রিয়ট ছুড়েছে। মিত্র দেশগুলোসহ মোট ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ৯৪৩টি।
ড্রোনের বিরুদ্ধে প্যাট্রিয়টের অপচয় রোধে যুক্তরাষ্ট্র এখন মধ্যপ্রাচ্যে মেরোপস নামক অ্যান্টি–ড্রোন সিস্টেম মোতায়েন করছে। এটি একটি ছোট পিকআপ ভ্যানে বহনযোগ্য ব্যবস্থা, যা ড্রোনের বিরুদ্ধে ড্রোন ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে। এটি ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে সীমিত পরিসরে এই ব্যবস্থা চালু হলেও আরও সরঞ্জাম পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
সুত্র- এপি



