30 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, জুন ২৪, ২০২১

অনলাইন টিভি

Bangladesh
866,877
কোভিড-১৯ সর্বমোট আক্রান্ত
Updated on June 24, 2021 12:01 PM
Homeরাজনীতিরাজপথে পড়ুয়াদের দাবি: সবকিছু সচল শিক্ষা কেন অচল

রাজপথে পড়ুয়াদের দাবি: সবকিছু সচল শিক্ষা কেন অচল

সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

নতুন কথা প্রতিবেদন ॥ করোনায় লণ্ডভণ্ড দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। সবকিছু খুলে দেওয়া হলেও টানা ১৫ মাস ধরে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অনলাইন, বেতার ও টেলিভিশনে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তাতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারছেন না। অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই বই থেকে অনেক দূরে। বাড়ছে বাল্য বিবাহ। ব্যাপক শিক্ষার্থীর ঝরে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। পরীক্ষা ও পড়ালেখার চাপ না থাকা শিক্ষার্থীরা নানা রকম গেমসে আসক্ত হয়ে পড়ছেন। জড়িয়ে পড়ছেন কিশোর গ্যাংয়ে। ঘরবন্দী থাকতে থাকতে বহু শিক্ষার্থীরা মানসিক সংকটের মুখোমুখীও হচ্ছেন। সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছেন অভিভাবকরাও। অন্যদিকে এইচএসসি-তে অটো পাস হলেও উচ্চ শিক্ষায় এখনো ভর্তি হতে না পারায় যন্ত্রণায় আছেন কয়েক লাখ শিক্ষার্থী। আর অনার্স-মাস্টার্স পাশ এবং শিক্ষা শেষে কর্মজীবনে প্রবেশের বয়স নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন উচ্চ শিক্ষার শিক্ষার্থীরা। ফলে শিক্ষা জীবন রক্ষায় রাস্তায় নেমেছেন পড়–য়ারা। তাদের দাবি-“সবকিছু সচল থাকলে, শিক্ষা কেন অচল থাকবে?” এ দাবিতে সারাদেশে চলছে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী।

গত বছরের ১৭ মার্চ করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। কয়েক দফা ছুটি বাড়িয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং গণপরিবহণ, শিল্পকারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু খুলে দেওয়া হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হয়েছে ১২ জুন পর্যন্ত। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে ১৩ জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটি সংক্রমণ পরিস্থি ৫ এর নিচে না এলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলার পরামর্শ দিয়েছে। বর্তমানে সংক্রমণ ৮ শতাংশ। সীমান্ত জেলাসমূহে সংক্রমণ বাড়ছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার অনিশ্চয়তা থেকেই গেল। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জোর দাবি তুলেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ অনেকে। তারা বলছেন, দূরপাল্লার যানবাহন, মার্কেট, দোকানপাট, বাজার সব খুলে দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কোনো যুক্তি নেই। বলছেন, গত শিক্ষাবর্ষে লেখাপড়া হয় নি, কিছু না জেনেই পরের শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। আর চলতি শিক্ষাবর্ষেরও প্রায় অর্ধেক সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। এখনো শিক্ষার্থীদের বইমুখী করা যাচ্ছে না। সারা দিন ফ্রি-ফায়ার, পাবজির মতো অনলাইন গেমে আসক্ত হয়ে পড়ে আছে। এভাবে আর কিছু সময় চলতে থাকলে সন্তানদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো কষ্টকর হবে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি তুলেছেন। খোলার পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন শিক্ষকরাও। তবে নিজেদের শিক্ষাজীবন বাঁচাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিতে সারা দেশে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী, টাঙ্গাইল, গাজীপুরের শিক্ষার্থীরা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, আরিফ কলেজ, ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিসহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছেন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘ গণপরিবহন চলে, গার্মেন্টস চলে, মার্কেট খোলা, সবকিছুই চলছে আপন গতিতে-কেবল বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটা হতে পারে না। আমরা অতি দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবি জানাচ্ছি।
উচ্চশিক্ষায় সেশনজট জেঁকে বসেছে। শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে, আছে চাকরির চিন্তা। সংকেটে আছেন জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের ২৯ লাখ শিক্ষার্থীরাও। এ প্রতিষ্ঠানেও লেগেছে পরীক্ষাজট। ২০২০ সালের কোনো পরীক্ষা এখনো শুরুই হয় নি। ২০১৯ সালের পরীক্ষাগুলো শেষ হলেও মৌখিক পরীক্ষা বাকি রয়েছে। মোটা দাগে তাদের ১০টি পরীক্ষা স্থগিত হয়ে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা মাস্টার্স ফাইনালের ১ লাখ ৩০ হাজার ও ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষে এক লাখ ৯০ হাজার পরীক্ষার্থী বিপদে আছেন। কেবল উচ্চ শিক্ষা’ই নয়, সারাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থী চরম বিপাকে পড়েছেন। বিপদে আছেন ৫০ লাখ শিক্ষকও। অস্তিত্বের সংকটে দেশের কি-ারগার্টেন স্কুলগুলো। সারাদেশে প্রায় ৬৫ হাজার প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। অবর্ণীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের।

তাছাড়া বিভিন্ন জরিপ প্রতিবেদন বলছে, অনলাইন শিক্ষা তেমন কাজে লাগছে না। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের দাবি ৯৩ শতাংশ আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণায় বলছে, ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ও টেলিভিশনে পাঠদানের আওতায় আছেন। কিন্তু গণস্বাক্ষরতা অভিযানের সমীক্ষা বলছে, ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন, বেতার ও টেলিভিশন শিক্ষার আওতায় এসেছে। আর পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপোলস সেন্টার(পিআরএসি) এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গর্ভমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) যৌথ গবেষণা বলছে, প্রাথমিকের ১৯ শতাংশ এবং মাধ্যমিকের ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী করোনার এই সময়ে নিয়মিত পড়াশোনার একদম বাইরে রয়েছে। এসব কারণে চরম বিপর্যের মুখে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষা বাঁচাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া উচিৎ-মন্তব্য শিক্ষার্থী-অভিভাবক, শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতাদের।

সর্বশেষ

×

আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ