30 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, জুন ২৪, ২০২১

অনলাইন টিভি

Bangladesh
866,877
কোভিড-১৯ সর্বমোট আক্রান্ত
Updated on June 24, 2021 12:01 PM
Homeজাতীয়সরকারি লক্ষ-কোটি টাকার প্রণোদনা: ক্ষতিগ্রস্তারা পেয়েছে কতটুকু?

সরকারি লক্ষ-কোটি টাকার প্রণোদনা: ক্ষতিগ্রস্তারা পেয়েছে কতটুকু?

নতুন কথা প্রতিবেদন ॥ করোনা মহামারিতে অর্থনীতির ধাক্কা সামলিয়ে জীবন-জীবিকার স্বার্থে বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বড় অংকের আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়, কিন্তু এর বাস্তবায়ন নিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ-হতাশা। বিভিন্ন প্যাকেজের আওতায় লক্ষাধিক কোটি টাকার ওই প্যাকেজের অর্থ থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা খুব কমই ঋণ সহায়তা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আর নগদ অর্থ সহায়তার ক্ষেত্রেও প্রাথমিক তালিকার ৫০ লাখ মানুষের সবাইকে সহায়তা পৌঁছে দেয়া যায় নি। যে কারণে প্যাকেজের অর্থ প্রাপ্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হতদরিদ্র মানুষ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা। অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, এ প্যাকেজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু দুর্বলতা রয়েছে। রয়েছে স্বচ্ছতার অভাব।
গত অর্থ বছর এবং তার আগে করোনাভাইরাস মহামারিতে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবেলায় বিভিন্ন খাতে ২৩টি আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। প্যাকেজের মোট অর্থের পরিমাণ হলো ১ লাখ ২৮ হাজার ৩শ’ ৩ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দাবি-প্যাকেজ ঘোষণার পর ২০২১ সালে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট প্রণোদনা প্যাকেজের মোট বরাদ্দের প্রায় ৮৩ শতাংশ অর্থই ইতোমধ্যে বিতরণ হয়েছে। আর এই প্যাকেজের প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১ কোটি ২৪ লাখ।
মহামারির শুরুতে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান পোশাক কারাখানার বেতন ভাতা পরিশোধের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। মালিকদের দাবির মুখে সেই ঋণ আরো বাড়িয়ে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি করা হয়। প্রায় ১৮শ’ কারখানা মালিক এ ঋণ সুবিধা নিয়ে শ্রমিকদের বেতনভাতা দিয়েছেন বলে জানা যায়। তবে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহামারির শুরুতে মাত্র কয়েকমাস তাদের বেতন-ভাতা মোবাইল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পেয়েছেন।
এ মহামারিতে ছোট বড় সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যই ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রণোদনা প্যাকেজে দেশের ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের জন্য বরাদ্দ হয় ২০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা জুন পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে। বরাদ্দের প্রায় চার ভাগের একভাগ টাকা পড়ে থাকলেও উদ্যেক্তাদের অনেকে চেয়েও ঋণ পান নি। একজন মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তা বলেন, ‘এ ঋণ আমাদের জন্য না। যাদের ক্ষমতা আছে আর যোগাযোগ আছে তারাই সুবিধা নিতে পেরেছেন।’ আরেকজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা জানান, দুটি ব্যাংকে আবেদন করে শেষ মুহূর্তে তাকে টাকা দেয়া হয় নি। এখনো তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সঙ্গীতা আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তাদের দশ হাজারের বেশি উদ্যোক্তা সদস্যদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন এই প্রণোদনার সুবিধা পেয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের অনেক মেম্বাররা বলছেন যে, আমরা ব্যাংকের কাছে চেয়েছি। ব্যাংক থেকে বলা হয়েছে প্রণোদনা প্যাকেজ শেষ। কিন্তু আসলেতো শেষ হয় নি। ফুল ইউটিলাইজ হলেও ব্যাংক বলছে শেষ। এর দায়দায়িত্ব কে নেবে?
আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণের সুদ সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ। পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে স্বল্প সুদে এ ঋণের সুবিধা বড় বড় শিল্প কারখানা আর সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা ব্যবসায়ী উদ্যোক্তারাই পেয়েছেন বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী শত শত কোটি টাকা এই প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘এ প্রণোদনার অর্থ ক্ষুদ্র, মাঝারি, অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে খুব একটা যায় নি। বড়রাই কিন্তু এই ঋণ পুরোটা নিতে পেরেছে এবং সেটা নিয়ে তাদের ব্যবসায় কাজে লাগিয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সেটা পারেন নি। সুতরাং তাদের এক্ষেত্রে খুব একটা সহায়তা হয়নি এই প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে।’
অন্যদিকে প্রান্তিক খেটে খাওয়া মানুষ আর হতদরিদ্র পরিবারের জন্য নগদ সহায়তা হিসেবে বরাদ্দ থাকলেও সবাইকে এই প্রণোদনার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। শুরুতে ৫০ লাখ পরিবারের জন্য নগদ অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ নেয়া হলে তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম আর ত্রুটির কারণে শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৪ লাখ পরিবার এ সহায়তা থেকে বাদ পড়ে। হতদরিদ্র মানুষেরা অনেকেই হতাশ। ঢাকায় কয়েকজন রিকশা চালক বলছিলেন, আইডি কার্ড নিয়ে তালিকায় নাম ওঠানোর কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত অনেকেই কোন সহায়তা পান নি।
এ বিষয়ে ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘৫০ লাখ পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে দেয়ার কথা থাকলেও পেয়েছে ৩৫ লাখের মত।
তিনি বলেন, গত দেড় বছরে যে উদ্যোগগুলি নেয়া হচ্ছে এবং বাস্তবায়নও চলছে-কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে বাস্তবায়নটা সুচারুভাবে হচ্ছে না। স্বচ্ছতার সাথে হচ্ছে না। ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা রয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারি কবে শেষ হবে সেটি এখনো কেউ বলতে পারছেন না। এ অবস্থায় সরকারি প্রণোদনা বা নগদ আর্থিক সহয়তার যে প্যাকেজই হোক তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন না হলে সমাজে বৈষম্য আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের।

সর্বশেষ

×

আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ