32 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, জুন ২৪, ২০২১

অনলাইন টিভি

Bangladesh
866,877
কোভিড-১৯ সর্বমোট আক্রান্ত
Updated on June 24, 2021 12:01 PM
Homeজাতীয়হেফাজতের দানবীয় তাণ্ডবের ৮ বছর : আপোস নয় রুখতে হবে

হেফাজতের দানবীয় তাণ্ডবের ৮ বছর : আপোস নয় রুখতে হবে

নতুন কথা প্রতিবেদন: ৫ মে ২০২১, রাজধানীতে হেফাজতী তাণ্ডবের ৮ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৩ সালের এ দিন মতিঝিলের শাপলা চত্বরে উগ্রসাম্প্রদায়িক ধর্মবাদী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের দানবীয় তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়েছিল মতিঝিল থেকে পল্টন মোড়। ওদের হিংসার আগুনে পুড়ে ছাড়খার হয়েছিল বিভিন্ন ভবন ও ফুটপাতের দোকান। আগুনে পুড়ে পবিত্র কোরআন ও ইসলামি বইপুস্তকও। সেদিনের সাম্প্রদায়িক আগুনে ভয়াবহ ক্ষতির ৮ বছর হলেও তাতে হেফাজত মোটেও অনুতপ্ত নয়, বরং এই সময়ে তারা আরো বেশি দানবীয় রুপ নিয়েছে। হেফাজতের আক্রমণে নিশ্চিহ্ন হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বহু ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। একই জেলার শাল্লার হিন্দু গ্রামের ধ্বংস চিহ্ন আজো বিবেকে নাড়া দেয়। প্রতিটি হামলার ধরণ একই রকম, সেই আফগানিস্তানের তালেবানী স্টাইল। তালেবানের জন্ম হয়েছে পাকিস্তানের দারুল উলুম হক্কানী কওমী মাদ্রাসা থেকে আর হেফাজতের জন্ম হাটহাজারীর কওমী মাদ্রাসা থেকে। কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক এই সংগঠন ইসলামের হেফাজতের কথা বলে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে প্রচার জিকির তুললেও মূলত এদের ভিতরে দেশকে আফগানিস্তানের তালেবানী রাষ্ট্র পরিণত করার অপরাজনীতি বিদ্যমান। সেভাবেই তারা পরিকল্পনা করে এগিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে নানা চাপে কোনঠাসা হলেও হেফাজত সুযোগ বুঝে আবারো খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসবে অন্য কোনো ইস্যুতে, অন্য নামে-তেমনটাই বলছেন রাজনৈতিক বোদ্ধা ও বিশ্লেষকরা।
জাতীয় নারী নীতি ইস্যুতে হেফাজতের যাত্রা শুরু ২০১০ সালে। অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিলেও কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক এই উগ্রবাদী সংগঠন শুরু থেকেই রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি নিয়ে কাজ করছে। যাত্রার ৩ বছরের মাথায় তাদের সাম্প্রদায়িক হিংসার আগুনে ঝলসে যায় রাজধানী ঢাকা। ওরা রাজনীতি শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতিবিরোধী। ২০১৩ সালের ৫ মে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনে গণজোয়ার সৃষ্টি হলে তার বিরুদ্ধে জামাত-শিবিরের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বি-টিম হিসেবে মাঠে নামে হেফাজত। সরকার ও প্রশাসন হুজুরদের কথায় আস্থা রাখলেও তারা খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে। দানবীয় তা-বে শ্মশানে পরিণত করে শাপলা চত্বর, বায়তুল মোকাররম, পল্টন, বিজয়নগর, দৈনিক বাংলা, গুলিস্তান, নয়াপল্টন ও পুরানা পল্টনসহ আশপাশের এলাকা। আগুনে পুড়ে দাউ দাউ করে জ¦লতে থাকে ভবনগুলো। হিংসার আগুনে জ¦লে রাস্তার গরিব মানুষের দোকান। সেই আগুন থেকে রক্ষা পায়নি হকারের দোকানে থাকা পবিত্র কোরআন, হাদিস ও ইসলামি বই। ধ্বংস করা হয় রাস্তার ডিভাইডার ও অক্সিজেনের ভা-ার গাছগুলো। মৌলবাদী আগুনে পুড়ে ছাই হয় সবকিছু। এত বড় তা-বের পরেও সরকার হেফাজতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে আপোস করতে থাকে। দিতে থাকে নানা সুযোগ-সুবিধা। তাদের প্রেসক্রিপশনে পাঠ্যপুস্তকের পরিবর্তন, সুপ্রীম কোর্টের নারী ভাস্কর্য সরানো হয়। দেওয়া হয় কওমী সনদ। তারপরেও হেফাজত তাদের সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়াতে দ্বিধা করে নাই। একই কায়দায় তাণ্ডব চালাতে থাকে। গত ৮ বছরে হেফাজত নানা ছুঁতোয় মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের বিরোধীতা করতে থাকে। ওরা স্বাধীন বাংলার স্থপতি বঙ্গবন্ধুকেও ছাড় দেয় নি। ভেঙে ফেলে তার ভাস্কর্য। বুড়িগঙ্গায় তার ভাস্কর্য ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে প্রকাশ্যে। বিভিন্ন ওয়াজে উস্কানিমূলক বক্তব্যে হেফাজত কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য ভাংচুর করে। সুনামগঞ্জের শাল্লায় সনাতন ধর্মালম্বীদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালায়। গত মার্চে সুবর্ণজয়ন্তীর মাহেন্দ্রক্ষণে তারা নানা হুমকি দিতে থাকে। ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরকে কেন্দ্র করে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হাটহাজারী সহ দেশের কয়েকটি স্থানে তা-ব চালায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তা-ব চালানো হয় তালেবানী স্টাইলে। সেখানে পরিকল্পিতভাবে সরকারি অফিস ও স্থাপনা এবং প্রগতিশীল চিন্তার স্মারক স্থাপনাগুলোতে হামলা করা হয়। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় ওস্তাদ আলাউদ্দিন খা সঙ্গীতালয়, ধীরেন্দ্রনাথ ভাষা চত্বর ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃত। এ হামলা মনে করিয়ে দেয় আফগানিস্তানের তালেবানী হামলার কথা। পুলিশ সুত্রে তালেবানী রাষ্ট্র কায়েমের অপরাজনীতির কথাই উঠে এসেছে। গ্রেপ্তারকৃত হেফাজত নেতা বলেছে তাদের অর্থের নানা উৎসের কথা। বলেছে ২০১৩ সালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার হঠিয়ে তারা তালেবানী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছিল। সে লক্ষ্যে তারা নতুন মন্ত্রী সভাও ঠিক করে ফেলেছিল। এবারও একই পরিকল্পনা ছিল।
সরকারের পদক্ষেপে হেফাজতকে সাময়িকভাবে দমানো গেছে। কিন্তু উগ্র সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়ানো যে ঠেকানো যাবে না তার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। কারণ হেফাজত বা জঙ্গীবাদী বাংলা ভাই-সবার একই লক্ষ্য। কেবল আলাদা আলাদা সময়ে ভিন্ন রূপ নিয়ে আসে। মূলত এদের উৎপত্তি কওমী মাদ্রাসা থেকে। সেখানেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ, ধর্মনিরপেক্ষতা, ভাস্কর্য, জাতির পিতা, স্বাধীনতা, বিজয় দিবস, ভাষা দিবস সম্পর্কে হিংসার বিষ বপন করা হয়। ফলে তারা জীবন দিতেও প্রস্তুত হয়। তাই হেফাজতকে সাময়িকভাবে দমন বা তাদের সাথে আপোস করে কখনোই বাংলাদেশ রক্ষা পাবে না। সুযোগ পেলেই ওরা হিংসার আগুন ছড়াবে। আর ওদের উগ্র সাম্প্রদায়িক হিংসার আগুনে ঝলসে যাবে বাংলাদেশ। তাই সাম্প্রদায়িকতার বিষমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে হেফাজত ও উগ্রবাদীদের সাথে আপোস নয়, নির্মূল করতে হবে। নিয়ন্ত্রণে এনে কঠোরভাবে মনিটর করতে হবে কওমী মাদ্রাসাগুলো-অভিমত দেশের বিশিষ্টজনদের।

সর্বশেষ

×

আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ