সোমবার,১২,জানুয়ারি,২০২৬
17 C
Dhaka
সোমবার, জানুয়ারি ১২, ২০২৬
প্রচ্ছদসম্পাদকীয়মুক্তমতরাজনীতি- রাষ্ট্র আর দায়বদ্ধতা

রাজনীতি- রাষ্ট্র আর দায়বদ্ধতা

রাষ্ট্রের চালক রাজনীতি,নীতির রাজা রাজনীতি বিপদ ঘটে তখন যখন রাজনৈতিক দল হয়ে যায় রাষ্ট্রের মালিক আর তখন সব কাগজে থাকে জনগণ হয় উপেক্ষিত। রাজনৈতিক দল যখন রাষ্ট দর্শনের বিপরীতে দলীয় দর্শন চাপাতে থাকে উৎসাহ দেয় চামচা চামুন্ডারা(হুজুরের জয় হোক)।বিপদ তখন থেকেই শুরু। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ রাজনৈতিক দল ইশতেহার দিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসবে,জবাবদিহি থাকবে।থাকেনা সেটা থাকেনি। রাষ্টীয় দর্শন উপেক্ষা করে,জনগণ রাষ্ট্রের মালিক না হয়ে যখন দল রাষ্টের মালিক হয়,তখন ইতিহাস বদলে যায়,বদলে যায় ইতিহাস,সংস্কৃতি,অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, সমরনীতি, আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ, বিচারবিভাগ।

ক্ষমতাসীন দল যখন ক্ষমতাকে দায়িত্ব না ভেবে আনন্দে মাতে আর পক্ষপাতিত্বের অর্থনীতিকে প্রশ্রয় দেয়,খুব স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ বঞ্চিত হয়,হয় হতাশ।ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রিয় স্বদেশ। রাষ্টের নিয়মক রাজনীতি, দলীয় রাজনীতি যখন রাষ্ট্রের দর্শন ভেঙে ফেলে,তখন সব ভেঙে পড়ে,পড়তে বাধ্য। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা,৭২ এর সংবিধান আমাদের রাষ্টের আদর্শ কারো সম্পত্তি না।রাজনৈতিক দল বা নেতারা যখন ক্ষমতায় থেকে নিজেকে সবকিছুর উর্ধ্বে ভাবে বা যারা তাদের ভাবতে শিখায় তখন বিপদটা আরো জটিল হয়।এ দৃশ্য প্রায় সর্বত্র। প্রয়োজন গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্মেষ। যা প্রায় অনুপস্থিত। এই অনুপস্থিতকে আজ উপস্থিত করার দায়িত্ব সবার।

নতুন প্রজন্মের কাছে আবদার প্রশ্ন করো,উত্তর চাও।অধিকার বুঝে নেয়ার জন্য প্রস্তুত হও,তোমার দেশ তোমার ঘর চেয়ে নয় – এটা তোমার অধিকার। দায়িত্বশীল বা ক্ষমতাসীনরা তোমার হক তোমার হাতে পৌছে দিবে,দিতে হবে।প্রজন্ম প্রশ্ন করো,উত্তর চাও। এস্টাবলিশমেন্টের ধারা রাজনীতিকে কুলষিত করে, জনগণকে বোকা ভাবা যেতে পারে কিন্তু জনগণ বোকা না। জনগণ তৃতীয় চোখ দিয়ে সব স্পষ্ট দেখতে পান।আমাদের ভূখন্ডের সাধারণ মানুষ দিয়েছে বেশী পেয়েছে কম।এটা বাস্তবতা। বর্তমান সময়ে আলোচিত হচ্ছে নিউ পলিটিক্স -ওল্ড পলিটিক্স। আসলে পলিটিক্স নিউ বা ওল্ড নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে তার ভিতর লুকায়িত মানুষের মৌলিক দাবি খেয়ে পরে শান্তিতে বেচে থাকার নিশ্চয়তা। তার জন্য প্রয়োজন নির্মোহ,বুদ্ধিবৃত্তিক, নৈতিক,দক্ষ ও সাহসী নেতৃত্ত্ব। যার অভাব বা দূরভিক্ষ রয়েছে যা দৃশ্যমান।ভোট আসছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও,ভোটে অংশগ্রহনকারী দল গুলো প্রার্থী নির্বাচিত করেছেন। শতভাগ রাজনৈতিক কতো জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন? সংসদ বহুকাল ধরেই আপাদমস্তক রাজনৈতিক পাচ্ছে না। যা পেয়েছে বা পাবে সেটাও খুব সামান্য এখানে সংকট ঘনিভুত এবং ঘুরপাক খাচ্ছে। এবারো কোটপতি সাংসদ প্রার্থী নেহায়েত কমনয়। স্বাভাবতই কোটিপতিরা শ্রমজীবী শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করেনা, নিজ শ্রেনী স্বার্থ রক্ষাই তাদের দায়িত্ব।

রাজনীতি বাঁচলে বাঁচে রাষ্ট্র , রাষ্ট বাঁচলে বাঁচে জনগণ। বি-রাজনীতি যখন রাজনীতিকে হাইজ্যাক করে তখন রাষ্ট্রের সবকিছু টালমাটাল হয়ে যায়। রাষ্ট্র হারায় দৃঢ়তা,সক্ষমতা এবং হুমকির মুখে থাকে সার্বভৌমত্ব।নেতাদের কিছু দায় রয়ে যায়, কর্মীদের রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তা বিকাশে কমতি থাকলে সেই কর্মী জনগণের মাঝে ক্রিয়া করতে পারে না,সেটা যখন পারে না তখন দল শুকাতে থাকে।ঠিক তখন বিপরীত আদর্শ সুযোগ বুঝে আঘাত করে।রাজনীতি এক মহান ব্রত। তবে পলিটিকাল মাইন্ড এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ।দেশপ্রেম যা আসে শৈশবে পরিবার বা স্কুলের গন্ডি,সিনেমা,কবিতা বা সাহিত্য থেকে। পরোপকার,উদার,দরদী মন সত্যিকার রাজনীতির কর্মীর পূর্বশর্ত, সত্যিকার বলার কারন রাজনীতির নামে লুটেপুটে খাওয়ার বহুদিনের রেওয়াজ।

মহামতি ষ্টালিন বলেছিলেন, পৃথিবীর সব পুঁজির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুঁজি হচ্ছে জনগণ এবং কর্মী,কর্মীর যত্ন এখানে পরিধান যোগ্য। সেই যত্ন নেয়ার অভাব এখানে স্পষ্ট। নৈতিকতা প্রশ্নে কমরেড ফিডেল বলেছিলেন, নৈতিকতা বুলেটপ্রুফ ভেষ্টের চাইতেও শক্তিশালী। মাও সে তুং শতফুল ফোটার কথা বলেছিলেন। দার্শনিক ডায়াজনিস, দিনের আলোয় লন্ঠন হাতে মানুষ খুজতেন,
সক্রেটিস বলেছিলেন, (Many of things I can do, Without) রাজনীতিবিদ গন নব্য উদারবাদের বিপরীতে দাঁড়িয়ে রাষ্ট, জনগণ ও ভূখন্ডের কল্যাণে সক্রেটিসের ছোট্ট বাক্যটি কি গ্রহন করবেন? শত সুবিধা পিছনে ফেলে জনকল্যাণে জ্ঞান,বুদ্ধি আর সামর্থ্য দিয়ে শান্তিময় আর নিখাধ ভালোবাসা মিশিয়ে জনগণের পাশে থাকবেন কি? থাকবেন কি জনগণের প্রশ্নের উত্তর দিতে সদা প্রস্তুত? ভুলে গেলে চলবেনা, রাষ্ট্র জনগণের, উৎপাদকের, নিপীড়িত, শোষিত আর বঞ্চিতের আর তারাই নিয়ামক।বেকার,চাকরিহারা, দারিদ্র্যের ঝুকিতে থাকা মানুষের কল্যাণ নিশ্চিতের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে, সংঙ্গত কারনেই রাজনৈতিক দল এবং নেতাদের । শোষনের বিপরীতে সাম্যে আর প্রগতির জয়গানের প্রত্যাশা অবশ্যই খুব বেশি চাওয়া নয়।

বিশ্ব আজ জোড়জুলুমের, সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট এবং তার স্ত্রী অপহরিত হলেন,সেখানেই শেষ নয় । মার্কিন হুমকি জারি আছে কিউবা,গ্রিনল্যান্ড সহ বিশেষিত গ্লোবাল সাউথ এ । সাম্রাজ্যবাদী শক্তির শ্যেন দৃষ্টি পরেছে। ইরানে সাম্রাজ্যবাদের খেলা বিশ্ববাসী নিরবে দেখছে, প্রতিবাদও হচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদের কব্জায় পরে বিশ্ববাসী অসহায়।মার্কিন নীতি আর তার ফাকা পকেট পুর্ন করতে মড়িয়া। মজলুমদের ঐক্য আজ সময়ের দাবি।

লেখক- সাব্বাহ আলী খান কলিন্স

সর্বশেষ