প্রচ্ছদসীমানা পেরিয়েইরান চাইলেই হরমুজ বন্ধ করতে পারে: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট

ইরান চাইলেই হরমুজ বন্ধ করতে পারে: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের  বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে তেহরান। সিএনএনের প্রতিবেদনে দুইটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, তেহরান এখন চাইলে যে কোনও সময় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তারের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার পেয়েছে ইরান। শুক্রবার তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রত্যাশার মধ্যেই এই মূল্যায়ন সামনে এলো।প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিটির মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা। একই সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ পরবর্তী আলোচনার শর্ত হিসেবেও বিষয়টি বিবেচিত হচ্ছে। তবে গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সংঘাত চলাকালে ইরান দেখিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে এবং প্রয়োজন হলে পুরো নৌ চলাচল বন্ধ করে দিতে সক্ষম।

সিএনএন আরও জানিয়েছে, যুদ্ধের সময় উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতাও প্রদর্শন করেছে ইরান। একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যৎ আলোচনায় এটি তেহরানের জন্য আরও একটি কৌশলগত চাপ প্রয়োগের উপায় হয়ে উঠতে পারে।

মার্কিন এক শীর্ষ কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং সমঝোতায় গ্রহণ করা অন্যান্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে ইরান এই চুক্তি থেকে কোনও সুবিধা পাবে না। তিনি সম্ভাব্য সুবিধাগুলোর বিস্তারিত জানাননি। তবে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে যুক্তরাষ্ট্রও ধীরে ধীরে তাদের অবরোধমূলক ব্যবস্থা কমাবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলে ছাড় মিলবে এবং পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় থাকবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়া এবং বর্তমান সংঘাতের অবসানে একমত হয়েছে বলে মনে হলেও, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে গেলে ইরান অর্থনৈতিকভাবে পারমাণবিক বিকল্প বিবেচনা করছিল। এই পরিকল্পনার আওতায় ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত প্রধান মিত্র হুথিদের ব্যবহার করে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টা করা হতে পারে। লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরকে সংযুক্তকারী এই জলপথও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকাকালে এটি আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এদিকে সোমবার জি-৭ সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যে আংশিকভাবে খুলে গেছে এবং শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারকে সই করলে এটি পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে।

ট্রাম্প বলেন, তারা ইতোমধ্যে শনাক্ত হওয়া কয়েকটি মাইন খুঁজে বের করার কাজ করছে। তবে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। শুক্রবার এটি পুরোপুরি খুলে যাবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের খুব বেশি সহায়তার প্রয়োজন হবে না। কারণ আমাদের এমন একটি চুক্তি হয়েছে, যার অধীনে প্রণালিটি খোলা থাকবে এবং সেখানে কোনও টোল থাকবে না। এ বিষয়টি নিয়ে কিছুটা মতবিরোধ ছিল, তবে এটি টোলমুক্ত থাকবে। তবে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি কমানোর পরও ইরানকে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া থেকে কীভাবে বিরত রাখা হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

সূত্র- উইয়ন নিউজ 

সর্বশেষ