প্রচ্ছদসম্পাদকীয়মুক্তমতইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সামরিক আগ্রাসন

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সামরিক আগ্রাসন

চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার উদ্বেগ : প্রশ্ন চীন কেনো সক্রিয়ভাবে ইরানের পক্ষ নেয় না: তবে চীন নিঃশব্দে ইরানে সক্রিয় আছে : যুক্তরাষ্ট্রের ভেনিজুয়েলা ও ইরান দখলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ চীন : যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ মেয়াদে চীনকে মোকাবিলা ও দূর্বল করতেই এইসব দেশ দখল: চীন যাতে ভবিষ্যতে সস্তায় জ্বালানি ক্রয় করতে না পারে! /? দূর্বল হবে নিজ নিজ দেশীয় মুদ্রায় বাণিজ্য করতে চাওয়া দেশসমূহ! /?
প্রথমে একটা কথা বলতে চাই তাহলো যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী হামলা থেকে এপর্যন্ত কেউ প্রাণে বাঁচতে পারেননি। ইরাকের  সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়। লিবিয়ার গাদ্দাফিকে হত্যা করা হয়। রাশিয়ার কারণে সিরিয়ার আসাদ প্রাণে বেঁচে গিয়ে এখন রাশিয়ায় দাঁতের ডাক্তারি করছেন। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকেও হত্যা করা হয়।  ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এইসব অনৈতিক হত্যাকাণ্ডকে দেশে দেশে জনগণ প্রতিবাদ করলেও সরকারগুলো নিন্দা করার সাহস করে না। এইবারও ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্র- ইজরায়েলের হামলার প্রতিবাদ জনগণ করছেন এবং আমাদের মতো অনেক দেশের মানুষের প্রশ্ন চীন ও রাশিয়া কেনো ইরানের পক্ষে যুদ্ধে লিপ্ত হয় না? জনগণের ধারণা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আমেরিকার তাবেদার, তাদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো কঠিন। বরং তারা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী। তাই জনগণ মনে করে চীন রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিরোধ করবে।
একথা ঠিক জনগণ এই আশা এমনে এমনে করে না। তারা দেখেছে দীর্ঘ সময় ধরে এই দুই দেশ ইরান ও সিরিয়াকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে। কিন্তু তার রাজনৈতিক অর্থনীতি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্র নীতি হলো চীনকে প্রতিরোধ করা। চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির গতি আগামী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাকে একটা জায়গায় বেঁধে ফেলতে পারে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবে আছে।  তাই যুক্তরাষ্ট্রের সব যুদ্ধ ও চাল সরাসরি রেজিম চেইঞ্জ হলেও তার দূরবর্তী লক্ষ্য হলো চীনের জ্বালানি সংগ্রহকে সীমিত ও বন্ধ করে দেওয়া। ভেনিজুয়েলার তেল ছিল চীনের একটা বড় পাইপ লাইন ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রপতিকে বন্দী করে ভেনিজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এতে চীন ও কিউবা জ্বালানি সংগ্রহে সংকটে পড়েছে। এখন ইরানের রেজিম চেইঞ্জ হলে ইরানে চীনের বিপুল বিনিয়োগ ও চীনা মুদ্রায় তেল সংগ্রহ করতে পারবে না।
চীন ইরানের সাথে সরাসরি জড়িত। ইরানের প্রযুক্তি, ইরানের প্রতিরক্ষা – প্রায় সব খাতেই চীনের বিনিয়োগ আছে। তাই চীন ইরানের পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চীন তাই কূটনৈতিক ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের প্রতিবাদ করেছে। রাশিয়া করেছে। উত্তর কোরিয়াও করেছে।  কিন্তু এই আন্তর্জাতিক খেলায় চীনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি কিন্তু চীন এখনো আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সামরিক খেলায় যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ নয়। রাশিয়া সংযত খেলোয়াড়। তবে চীনের এই ক্ষতিতে বিপর্যস্ত হবে  রোড এন্ড বেল্ট প্রকল্পে যুক্ত প্রায় সব দেশ। এছাড়া,  ডলারকে এড়িয়ে যেসব দেশ নিজ নিজ দেশীয় মুদ্রায় বাণিজ্য করতে চাইছে তারা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চীনের প্রায় সব বিনিয়োগ এখন বেশ ঝুঁকিতে আছে। চীনের পর পাকিস্তানেও। এখানেও যুক্তরাষ্ট্রের খেলা আছে। চীন ও রাশিয়া ছাড়া আর কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করছে না। ইউরোপ ও ওআইসি বহু বছর যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী। তাই চীন ও রাশিয়াকে একা খেলতে হয়। ইরানের পতন হলে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা অসীম হবে। চীন ও রাশিয়া তা ঠেকাতে সময় লাগবে। তাই একথা পরিষ্কার যেসব দেশ ইরান, চীন ও রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক গড়বে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের শিকার হবে। বাংলাদেশের মতো দেশও ভবিষ্যতে ইরানের পতনে যুক্তরাষ্ট্রের অক্ষভুক্ত হওয়া ছাড়া উপায় পাবে না। পৃথিবীকে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হবে।
লেখক-

শরীফ শমশির

 

সর্বশেষ