বুধবার,১৯,জুন,২০২৪
29 C
Dhaka
বুধবার, জুন ১৯, ২০২৪
Homeসীমানা পেরিয়েগাজায় সহিংসতায় যাদের প্রাণ না কাঁদে, তারা পাথরে তৈরি : পুতিন

গাজায় সহিংসতায় যাদের প্রাণ না কাঁদে, তারা পাথরে তৈরি : পুতিন

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর পরিকল্পিত সহিংসতায় হতাহত শিশু-নারী ও বেসামরিক লোকজনকে দেখেও যাদের প্রাণ কেঁদে না ওঠে, তাদের হৃদয় পাথরের তৈরি বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

অবশ্য তিনি এ কথাও বলেছেন যে, গাজায় ধ্বংসযজ্ঞকে কোনো কোনো পক্ষ সহিংসতা উস্কে দিতে ব্যবহার করতে পারে। সুতরাং এ ব্যাপারেও সবার সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

শুক্রবার মস্কোতে এক উচ্চ পর্যায়ের সরকারি বৈঠকে পুতিন বলেন, ‘একটি স্ফুলিঙ্গ কিংবা গোলা নিক্ষেপ করা সহজ, খুবই সহজ; কিন্তু তারপর যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়…. আপনি যদি স্বাভাবিক মানুষ হন, তাহলে যখন হামলায় রক্তাক্ত শিশুদের যন্ত্রণা আপনি নিজের চোখে দেখবেন, সেসময় আপনার হাতের মুঠো দৃঢ় হবে এবং চোখ অশ্রুতে ভরে উঠবে। সাধারণ লোকজনের ক্ষেত্রে এমনটাই ঘঢ়টে থাকে।’

‘কিন্তু এসব ভয়াবহ দৃশ্য দেখার পরও যারা স্বাভাবিক রয়েছে, কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না— তারা দেখতে মানুষের মতো হলেও আসলে তাদের হৃদয় নেই; কিংবা যদি থেকেও থাকে— তাহলেও সেই হৃদয় রক্ত-মাংস দিয়ে নয়, পাথরে তৈরি।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইসরায়েল সফরে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন। সেখানে গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাস যোদ্ধাদের হামলার কিছু ছবি ও ভিডিওদৃশ্য দেখে কেঁদে ফেলেন তিনি।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তপথ ইরেজ সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস। ওই দিন শেষ রাত থেকে কয়েক হাজার রকেট ছোড়ার পর বুলডোজার দিয়ে সীমান্ত বেড়া ভেঙ্গে ইসরায়েলে প্রবেশ করে কয়েক শ’ হামাস যোদ্ধা এবং শত শত ইসরায়েলি ও অন্যান্য দেশের নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যার পাশপাশি ২৩৪ জনকে জিম্মি হিসেবে গাজায় ধরে নিয়ে যায় তারা।

জবাবে ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী (আইএএফ), যা এখনও চলছে। গত শনিবার থেকে আইএএফের পাশাপাশি গাজায় অভিযান শুরু করেছে স্থল বাহিনীও।

গত প্রায় এক মাসের যুদ্ধে হামাসের হামলায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি ইসরায়েলি ও অন্যান্য দেশের নাগরিক। অন্যদিকে ইসরায়েলের বিমান বাহিনীর অভিযানে গাজায় নিহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৯ হাজার ৬১ জনে। এই নিহতদের অধিকাংশই শিশু-নারী ও বেসামরিক লোকজন।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের অধিকাংশের মতে, ১৯৫৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর এই প্রথম এত বড় মাত্রার যুদ্ধ দেখছে মধ্যপ্রাচ্যের আল-আকসা অঞ্চল।

এদিকে গাজা উপত্যকার সহিংসতাকে কেন্দ্র করে বিশ্বের দেশে দেশে বেড়ে চলেছে ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের বিদ্বেষ ও ঘৃণামূলক অপরাধ। সম্প্রতি রাশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত দাগেস্তান প্রদেশেও বিশাল মাত্রার ইহুদি বিরোধী দাঙ্গা হয়েছে। সেই দাঙ্গা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্তত ৬৬ জনকে।

এ ব্যাপারে রুশ কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে পুতিন বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই ঠান্ডা মাথায় এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে এবং সমস্যার শেকড় খুঁজে বের করতে হবে।’

সর্বশেষ