অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয়নেতা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মৃত্যু দিবসে গভীর শ্রদ্ধা : স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাব থেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা : স্বাধীন বাংলাদেশের কুঁড়েঘর প্রতীকের নামে যিনি পরিচিত : ন্যাপ মোজাফফর ব্রান্ড তাঁর।
আজ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয়নেতা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (১৯২২-২০১৯) – এর মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁকে অনেকে স্মরণ করেছেন। কিন্তু সকলের স্মরণ করা উচিত। এ কে ফজলুল হকের সময়ে যিনি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। সোহরাওয়ার্দীর আমল দেখেছেন, মওলানা ভাসানীর সাথে রাজনীতি করেছেন, ১৯৬৭ সাল থেকে ন্যাপ মোজাফফর হিসেবে তাঁর দলের পরিচিতি শুরু হয়।মস্কো-চীন বিভক্তিতে তিনি মস্কোপন্থী হিসেবে পরিচিত হন এবং অন্যদলটি ন্যাপ ভাসানী হিসেবে পরিচিত হয়।
আমি তাঁকে আশির দশকের পর থেকে চিনি। তাঁর স্লোগান ছিল তখন, ধর্ম- কর্ম- সমাজতন্ত্র। তিনি একজন জাতীয়বাদী নেতা ছিলেন কিন্তু সমাজতন্ত্রে তাঁর আস্থা ছিল।
তিনি ভাষাসংগ্রামী ছিলেন। যুক্তফ্রন্টের এমপি ছিলেন। প্রাদেশিক গণপরিষদে পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। তিনি ষাটের দশকে নিষ্ঠার সাথে সোভিয়েত ইউনিয়নের পথে রাজনীতি করেছেন। তাই মস্কোপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন। ন্যাপ- কমিউনিস্ট পার্টির মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠীত করেছেন।
স্বাধীনতার পর ত্রিদলীয় ঐক্য গড়ে বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতি করেছেন। ১৯৭৯ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তারপর রাজনীতি চলেছে নানা আন্দোলন সংগ্রামে। ততদিনে রাজনীতি বদলে গেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের অবসানের পর অনেক রাজনীতির ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুরনো রাজনীতির অবসান হয়েছে এবং নব্বইয়ের দশকের দিকে বাংলাদেশে নতুন রাজনীতির শুরু হয়। রাজনীতিতে আশির দশকে ন্যাপ ভাসানী ও ন্যাপ মোজাফফর ধীরে ধীরে অবসিত হয়ে যায়। কিন্তু মওলানা ভাসানী যেমন উজ্জ্বল তেমনি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদও প্রাসঙ্গিক ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সততা ছিল অনন্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ছিলেন কিন্তু তাঁর দলের রাজনৈতিক প্রতীক ছিল, কুঁড়েঘর।
ব্যক্তিগতভাবে ১৯৭৩ সালেই আমি এই প্রতীকের সাথে পরিচিত হই। তাঁর জীবনও কুঁড়েঘরের মত সহজ ছিল।
বাংলাদেশের রাজনীতি এখন আর কুঁড়েঘরের পর্যায়ে নেই, দালান কোঠার পর্যায়ে চলে গেছে।
কিন্তু জাতীয় মুক্তির আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যাঁরা জাতীয় পর্যায়ে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাঁদের সকলকে, আজ এই দিনে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা উচিত।
অনেক রাজনীতির পর্যালোচনা করা যায়, যাবে কিন্তু অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকে সব বিবেচনায় বাংলাদেশের রাজনীতির একটা গুরুত্বপূর্ণ ধারা বিবেচনায় সকলের স্মরণ করা উচিত।
এই স্মরণে শ্রদ্ধায় তিনি যেমন সম্মানিত হবেন তেমনি দেশ ও জনগণ তাঁর শিক্ষা থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে।
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকে তাই জাতীয় ভাবে স্মরণ করা উচিত। তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
লেখক- শরীফ শমশির
লেখক ও গবেষক



