32 C
Dhaka
শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

অনলাইন টিভি

Bangladesh
1,540,110
কোভিড-১৯ সর্বমোট আক্রান্ত
Updated on September 18, 2021 6:43 PM
Homeসীমানা পেরিয়েভারতের ‘টিকা কূটনীতি’ : লক্ষ্য চীনের প্রভাব মোকাবিলা

ভারতের ‘টিকা কূটনীতি’ : লক্ষ্য চীনের প্রভাব মোকাবিলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধনা প্রভাব রুখতে এখন ‘টিকা কূটনীতি’-তে জোর দিয়েছে ভারত। এর অংশ হিসেবে দেশটি বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, ভূটান, নেপালসহ বেশ কয়েকটি দেশকে বিনামূলে বিশাল অংকের টিকা সরবরাহ করছে। ভারত বাংলাদেশকে ২০ লাখ ডোজ টিকা বিনামূলে সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে; যার একটা বড় চালান ইতিমধ্যে এসে পৌছেছে। তবে দিল্লি পাকিস্তানকে কোন টিকা দিচ্ছে না। এর কারন চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের অতিমাত্রায় সম্পর্ক। চীন বিনামূল্যে পাকিস্তানকে ৫ লাখ ডোজ টিকা দিচ্ছে; যদিও এটা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগন্য। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন এমন পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদকে দিল্লির মুখাপেক্ষী হতে হবে। কারন টিকা তৈরির ক্ষেত্রে ভারত একটা ‘পাওয়ারহাউস’। পৃথিবীর ৬০ শতাংশ টিকা ভারতে তৈরি হয়। টিকা উৎপাদনে এখন বিশ্বে ভারতই এগিয়ে আছে।
মধ্য জানুয়ারি থেকে পাকিস্তানের চির-বৈরি প্রতিবেশি ভারতে শুরু হয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম কোভিড টিকাদান কর্মসূচি। কিন্তু পাকিস্তান এখনও টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে পারেনি। পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ তিনটি টিকা সেদেশে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। এগুলো হলো- চীনের সিনোফার্ম, রাশিয়ার স্পুটনিক ভি এবং অক্সফোর্ড-এ্যাস্ট্রাজেনেকা। এর মধ্যে চীন ৫ লাখ ডোজ সিনোফার্ম টিকা পাকিস্তানকে দান করবে; যার প্রথম চালান শিগগিরই পৌছার কথা। করাচি শহরের একজন টিকা আমদানিকারক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘এটা প্রয়োজনের তুলনায় কিছুই না।’
করোনাভাইরাসে পাকিস্তানে এ পর্যন্ত ৫ লাখ ৩০ হাজার আক্রান্ত হয়েছে এবং ১১ হাজার ৫১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভ্যাক্স কর্মসূচির মাধ্যমে আরও টিকা পাওয়ার চেষ্টা করবে। এদিকে ইতিমধ্যে এমন আশংকা তৈরি হচ্ছে যে, ধনী দেশগুলো হয়তো দরিদ্র দেশগুলোকে বঞ্চিত করে নিজেদের জন্য টিকার বিশাল মজুত গড়ে তুলবে। সে কারনেই টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটা বিরাট ভূমিকা পালন করতে পারে পাকিস্তানের প্রতিবেশি ভারত।
ভারত থেকে কি টিকা পাকে পাকিস্তান? : পাকিস্তান আর ভারতের সম্পর্ক অতিমাত্রায় খারাপ হলেও দেশ দু’টির মধ্যে ফার্মাসিউটিক্যাল বাণিজ্য কিন্তু স্থিতিশীলভাই চলছে। ভারত থেকে পাকিস্তান ২০১৮ সালে ৬ কোটি ২০ লাখ ডলারেরও বেশি মূল্যের ফার্মাসিউটিক্যাল সামগ্রী আমদানি করেছে। পাকিস্তানে ওষুধের সক্রিয় উপাদানগুলোর ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই আমদানি হয় ভারত থেকে। আর পাকিস্তানে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের যত টিকা দেওয়া হয়, তার ৯০ শতাংশই আসে ভারত থেকে।
একারনেই করাচির ওষুধ আমদানিকারক ওসমান গনি মনে করেন, অদূর ভবিষ্যতে ভারত থেকে টিকা পাবে পাকিস্তান। তিনি বলেন, ‘ভারত সারা পৃথিবী থেকে বিপুল পরিমান ভ্যাকসিনের অর্ডার পেয়েছে। আমাদের সঙ্গে সীমান্তের ওপারের টিকা উৎপাদনকারীদের ভাল সম্পর্ক রয়েছে। আমরা সরবরাহ পাওয়ার চেষ্টা করবো। কিন্তু এ জন্য সময় লাগবে।’
ভারতে উৎপন্ন টিকার কিছু চালন বিনামূলে পাঠানো হয়েছে প্রতিবেশি দেশ বাংলাদেশ, ভূটান, নেপাল, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, শ্রীলংকা, সেশেলস ও বাহরাইনে। বাণিজ্যিকভাবে রফতানি হচ্ছে ব্রাজিল ও মরক্কোতে। অনেকে মনে করেন, ভারত এই ভ্যকসিন কূটনীতি চালাচ্ছে এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান চীনা প্রভাব মোকাবিলা করার কৌশলের অংশ হিসেবে।
দিল্লির অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন নামে একটি থিংকট্যাংকের গবেষক হর্ষ পন্থ এবং আর্শি তির্কী জানান, ভারত তার ভ্যাকসিন কূটনীতি দিয়ে চীনের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কারন চীন টিকার বিষয়টি তাদের বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের অংশ করেছে। এমনকি চীন তাদের ‘সফট পাওয়ার’-কে জোরদার করার জন্য ‘স্বাস্থ্য সিল্ক রোড’ উদ্যোগেও এই টিকার বিষয়টিকে খোলাখুলিভাবে অর্ন্তর্ভূক্ত করেছে।
তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান জানিয়েছেন, টিকার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের মধ্যে কোন উগ্র প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত নয়, সংঘাততো নয়ই। মানুষের জীবন রক্ষাকারী এই জিনিস নিয়ে রাজনীতি করারও কোন অবকাশ নেই।

সর্বশেষ