দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যাশিত সাফল্য দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সরকার তা কাজে লাগাতে পারেনি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশিত ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২৫’-এর বৈশ্বিক প্রতিবেদন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, জুলাই আন্দোলনের পর বাংলাদেশের সিপিআই স্কোর মাত্র ১ পয়েন্ট বেড়ে ২৪-এ দাঁড়িয়েছে, যা আগে ছিল ২৩। এই সূচকে ১৮২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম। আফগানিস্তানের পরই বাংলাদেশের অবস্থান, যা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।
টিআইবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এক ধাপ অবনতি হয়ে এখন ১৩তম। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের দুর্নীতি পরিস্থিতিতে কোনো মৌলিক বা বাস্তব পরিবর্তন হয়নি। বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দুর্নীতি দমন ও সুশাসনের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান স্কোর তার সীমিত ও তাৎক্ষণিক প্রতিফলন মাত্র। অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করে টিআইবি বলেছে, সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির চর্চা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দুটি প্রধান দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং দুর্নীতি দমন—কিন্তু এ দুটি ক্ষেত্রেই সরকার প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি। এর ফলে দেশ একটি বড় সুযোগ হারিয়েছে বলে মন্তব্য করে সংস্থাটি।
এ সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার আহ্বান জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী প্রচারে যেসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনবিরোধী অবস্থান নিয়ে সহিংসতার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং অতীতের ভূমিকার জন্য এখনো ক্ষমা চায়নি।



