“ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রপন্থি কর্মী মারিয়া করিনা মাচাদোকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার পর তীব্র সমালচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে” সমালোচকরা জোর দিয়ে বলছেন, তিনি ইসরাইল এবং গাজার বোমাবর্ষণের সমর্থন দিয়েছিলেন। তার দেশের সরকারকে উৎখাত করার জন্য বিদেশি হস্তক্ষেপও তিনি আহ্বান করেছিলেন। বিশেষ করে গাজায় বোমা হামলা নিয়ে বিশের বেশির ভাগ দেশ যেখানে নিন্দা জানিয়েছে। সেখানে এই হামলায় সমর্থন দিয়েছেন মাচাদো। তিনি সমর্থন দিয়েছেন ইসরাইলকেও। তাকে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হোয়াইট হাউস এই পদক দেয়ার সমালোচনা করেছে।
তারা বলেছে যে, এতে ‘শান্তির ওপরে রাজনীতিকে স্থান দেয়া হয়েছে।’ পরে মাচাদো তার নোবেল ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টও তাতে খুশি হওয়ার কথা জানান। ওদিকে সমালোচকরা মাচাদোর পুরনো পোস্টগুলো শেয়ার করছেন। তাতে তিনি ইসরাইল ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন। এগুলি তুলে ধরে তাকে গাজার ‘হত্যাযজ্ঞ’ সমর্থনের দায়ে আঙ্গুল তোলা হচ্ছে। তিনি ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাসের হঠাৎ হামলার পর ইসরাইলের প্রতি সংহতি ব্যক্ত করেছিলেন। তবে তিনি কখনোও স্পষ্টভাবে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুকে সমর্থন করেননি- এমন দাবি আছে। তবু বছরের পর বছর ধরে তার পোস্টগুলো দেখায় তিনি নেতানিয়াহুর পক্ষ নিয়েছিলেন। সমালোচকদের নজরে আসা পোস্টগুলোর একটিতে তিনি বলেছেন, ‘ভেনেজুয়েলার সংগ্রাম হল ইসরাইলের সংগ্রাম।’ দুই বছর পর তিনি ইসরাইলকে ‘স্বাধীনতার প্রকৃত বন্ধু’ বলে অভিহিত করেন। যদি তিনি ক্ষমতায় আসতেন, তিনি ইসরাইলে ভেনেজুয়েলার দূতাবাস স্থানান্তর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
নরওয়ের আইনপ্রণেতা বিজর্নার মক্সনেস উল্লেখ করেন যে, মাচাদো ২০২০ সালে ইসরাইলের লিকুদ পার্টির সঙ্গে সহযোগিতার নথি স্বাক্ষর করেছিলেন। তিনি বলেন- লিকুদ পার্টিই গাজার ‘হত্যাযজ্ঞের’ জন্য দায়ী এবং এজন্যই এই পুরস্কার নোবেলের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আমেরিকার কাউন্সিল অন আমেরিকান- ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) নামের একটি মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠনও এই ‘অনৈতিক সিদ্ধান্ত’কে কড়া সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি অনলাইন পোস্টে বলেছে নোবেল কমিটিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত। কারণ এতে কমিটির সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা আরও বলেছে, নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটিকে এমন কোনো ব্যক্তিকে স্বীকৃতি দেয়া উচিত যিনি নৈতিক ধারাবাহিকতা প্রদর্শন করেছেন এবং সকল মানুষের জন্য ন্যায়ের পক্ষে সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন- যেমন তারা ছাত্র বা সাংবাদিক বা কর্মীরা, চিকিৎসা পেশাজীবী যারা গাজার হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নিজেদের জীবন ও পেশা ঝুঁকির মুখে রেখেছেন।
মাচাদো বিদেশি হস্তক্ষেপ চাওয়ার জন্যও প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছেন। তার সরকারের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় তিনি বিদেশিদের সাহায্য চাইতে চিঠি লিখেছিলেন বলে অভিযোগ আছে। ২০১৮ সালে তিনি ইসরাইল ও আর্জেন্টিনার প্রতি ভেনেজুয়েলার শাসনব্যবস্থা পাল্টাতে সহায়তা চাওয়ার একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তিনি অনলাইনে চিঠির একটি কপি শেয়ার করে লিখেছিলেন, ‘আজ আমি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি পাঠাচ্ছি, তাতে তাদের শক্তি ও প্রভাব ব্যবহার করে অপরাধী ভেনেজুয়েলার শাসনব্যবস্থাকে ভেঙে দেয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে বলছি, যা মাদকদ্রব্য পরিবহন ও সন্ত্রাসবাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।



