শুক্রবার,৯,জানুয়ারি,২০২৬
24 C
Dhaka
শুক্রবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৬
প্রচ্ছদসীমানা পেরিয়েগ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে বিভিন্ন উপায় ভাবছে- হোয়াইট হাউস

গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে বিভিন্ন উপায় ভাবছে- হোয়াইট হাউস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্কের দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখল বা অধিগ্রহণের ‘বিভিন্ন উপায়’ নিয়ে আলোচনা করছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এই বিকল্পগুলোর মধ্যে প্রয়োজনে সামরিক বাহিনী ব্যবহারের বিষয়টিও রয়েছে। মূলত গ্রিনল্যান্ড দখলকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো একজোট হয়ে ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

হোয়াইট হাউস বিবিসিকে জানিয়েছে, ডেনমার্কের অধীনে থাকা আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনাটা তাদের কাছে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বিষয়গুলোর একটি। কয়েকজন ইউরোপীয় নেতা ডেনমার্কের পক্ষে যৌথ বিবৃতি দেয়ার পরপরই হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই মন্তব্য করা হলো।

অবশ্য ডেনমার্ক দীর্ঘদিন ধরেই আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটি নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহের বিরোধিতা করে আসছে। কিন্তু গত সপ্তাহের শেষে ট্রাম্প আবারও বলেছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের গ্রিনল্যান্ড ‘প্রয়োজন’। এর জবাবে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালায়, তাহলে তা ন্যাটো জোটের সমাপ্তি ঘটাবে।

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানায়,প্রেসিডেন্ট ও তার দল এই গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য নানা বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করার মতো বিকল্পও তার (ট্রাম্পের) হাতে আছে। মূলত ন্যাটো একটি ট্রান্স আটলান্টিক সামরিক জোট। অর্থাৎ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার কয়েকটি দেশ এর সদস্য। চুক্তি অনুযায়ী, ন্যাটোভুক্ত এক দেশের ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা। মঙ্গলবার ইউরোপের ছয়টি দেশ ডেনমার্কের প্রতি তাদের সমর্থন জানায়। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন ও ডেনমার্কের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের। গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক ছাড়া অন্য কেউ তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর নেতারা জোর দিয়ে বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের মতোই আগ্রহী ও সচেতন। তবে তাদের মতে, এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও থাকবে। সেইসঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা মেনে চলতে বলেন। সকল রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত অমান্য না করাও এর মধ্যে রয়েছে।

এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়, সোমবার ক্যাপিটল হিলে একটি গোপন ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইনপ্রণেতাদের জানান, ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে না। তবে তারা ডেনমার্কের কাছ থেকে দ্বীপটি কিনতে চায়। এছাড়া রয়টার্সকে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবনায় থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে দ্বীপটিকে সরাসরি কিনে নেয়া অথবা ওই অঞ্চলের সঙ্গে একটি বিশেষ সহযোগিতা চুক্তি (কমপ্যাক্ট অব ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন) করাও রয়েছে।এর আগে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের দাবির বিষয়ে তারা দ্রুত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে আলোচনায় বসতে চায়। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকের সঙ্গে কথা বললে কিছু ‘ভুল বোঝাবুঝির’ অবসান হতে পারে।

সুত্র-বিবিসি 

সর্বশেষ