বৃহস্পতিবার,১,জানুয়ারি,২০২৬
17 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১, ২০২৬
প্রচ্ছদসীমানা পেরিয়েদিল্লির বাংলাদেশ দূতাবাসে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

দিল্লির বাংলাদেশ দূতাবাসে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

বিএনপির প্রতি ভারতের মনোভাব যে ক্রমেই আরও নরম ও ইতিবাচক হচ্ছে, তারই ইঙ্গিত দিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে দিল্লির বাংলাদেশ দূতাবাসে আসছেন।

 সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে রাজনাথ সিং চাণক্যপুরীর বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে আসবেন এবং সেখানে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সদ্যপ্রয়াত খালেদা জিয়ার স্মরণে রাখা শোকপুস্তিকায় নিজের বার্তা লিপিবদ্ধ করবেন। দিল্লির এই বাংলাদেশ হাই কমিশন অভিমুখে মাত্র সপ্তাহখানেক আগে (২৩ ডিসেম্বর) বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের ডাকে প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছিল ভারতের রাজধানী।

তারও দিন তিনেক আগে (২০ ডিসেম্বর) জনাকয়েক বিক্ষোভকারী ওই একই কমপ্লেক্সে অবস্থিত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের একেবারে সামনে চলে গিয়ে রাতের অন্ধকারে স্লোগান দিয়েছিল, তারা হাই কমিশনারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও তিক্ত থেকে তিক্ততর হয়ে ওঠে। কিন্তু তার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই যেভাবে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতো একজন ভিভিআইপি নিজে বাংলাদেশ দূতাবাসে যাচ্ছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকজ্ঞাপন করাটা তার সফরের প্রধান উদ্দেশ্য বটে, কিন্তু হাই কমিশন প্রাঙ্গণে রাজনাথ সিংয়ের নিজে যাওয়াটা এই বার্তাও দিচ্ছে যে বাংলাদেশ দূতাবাসে তারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আশ্বাস দিচ্ছেন। এর আগে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রয়াত খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে ও তার জানাজায় অংশ নিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্ককর ঢাকায় আসেন। এই সফরে তিনি খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গেও দেখা করেছেন এবং তার হাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লেখা একটি চিঠিও তুলে দিয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্ককরের এই সফরকে ভারতে অনেক পর্যবেক্ষকই ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, ভারত বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা আঁচ করছে এবং তার আগে খালেদা জিয়ার জানাজার সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে এবং বিএনপির প্রয়াত নেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে দলটির সঙ্গে সম্পর্ক সহজ ও স্বাভাবিক করে তুলতে চাইছে। ভারত ইতোমধ্যে একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, বাংলাদেশে আগামী নির্বাচনে যারাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জিতে ক্ষমতায় আসবে, দিল্লি তাদের সঙ্গে ‘এনগেজ করতে’ প্রস্তুত। এখন বর্তমান বাস্তবতায় এই ‘যারাই’ বলতে যে তারা বিএনপিকেই বোঝাচ্ছে, দিল্লিতে সেটাও সুবিদিত। এস জয়শঙ্ককরের ঢাকা সফরের অব্যবহিত পরেই দিল্লির বাংলাদেশ হাই কমিশনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সফর এই লক্ষ্যেই আর একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত!

সর্বশেষ