শুক্রবার,৯,জানুয়ারি,২০২৬
15 C
Dhaka
শুক্রবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৬
প্রচ্ছদসম্পাদকীয়মুক্তমতনিরাপত্তা পরিষদে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফ্রি ডি স্যাক্সের বক্তব্য

নিরাপত্তা পরিষদে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফ্রি ডি স্যাক্সের বক্তব্য

বক্তা: জেফ্রি ডি. স্যাকস, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সমাধান নেটওয়ার্কের সভাপতি এবং কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক।

অনুষ্ঠান: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান সম্পর্কে নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক।

প্রিয় সভাপতি, মাননীয় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

আজ এই পরিষদে আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ভেনেজুয়েলা সরকারের চরিত্র নয়।

আলোচ্য বিষয় হচ্ছে, কোনও সদস্য রাষ্ট্রের কি কোনও রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ বা তার বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করার অধিকার রয়েছে — বলপ্রয়োগ, জবরদস্তি বা অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে?

এই প্রশ্নটি সরাসরি জাতিসংঘ সনদের ধারা ২(৪)-এর সাথে জড়িত, যা যে কোনও রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের হুমকি নিষিদ্ধ করে। এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হবে না পরিত্যাগ করা হবে, তা সিদ্ধান্ত নিতে হবে এই পরিষদকে। এটি পরিত্যাগ করার মারাত্মক পরিণতি হতে পারে।

পটভূমি  প্রেক্ষাপট-

১৯৪৭ সাল থেকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি বারবার অন্য দেশগুলিতে সরকার পরিবর্তন আনার জন্য বলপ্রয়োগ, গুপ্ত কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ব্যবহার করেছে। ১৯৮৯ সাল থেকে, নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই বড় আকারের মার্কিন সরকার-পরিবর্তন অভিযানের মধ্যে রয়েছে ইরাক (২০০৩), লিবিয়া (২০১১), সিরিয়া (২০১১ থেকে), হন্ডুরাস (২০০৯), ইউক্রেন (২০১৪) এবং ভেনেজুয়েলা (২০০২ সাল থেকে)।

ভেনেজুয়েলার ঘটনা- 

ভেনেজুয়েলার সাথে সম্পর্কিত সাম্প্রতিক মার্কিন রেকর্ড স্পষ্ট। এপ্রিল ২০০২ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টার কথা জানত এবং তা অনুমোদন করেছিল। ২০১০ এর দশকে, তারা সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলিতে অর্থায়ন করেছিল এবং ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, যার ফলে তেল উৎপাদন ৭৫ শতাংশ এবং মাথাপিছু প্রকৃত জিডিপি ৬২ শতাংশ কমে যায়। ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯-এ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে হুয়ান গুয়াইদোকে “অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি” হিসাবে স্বীকৃতি দেয় এবং ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিমায়িত করে। এই পদক্ষেপগুলি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান মার্কিন সরকার-পরিবর্তন প্রচেষ্টার একটি অংশ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বৈশ্বিক বাড়াবাড়ি- 

গত এক বছরে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাতটি দেশে অননুমোদিত বোমা হামলা চালিয়েছে: ইরান, ইরাক, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং এখন ভেনেজুয়েলা। গত মাসে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কমপক্ষে ছয়টি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ হুমকি দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে কলম্বিয়া, ডেনমার্ক, ইরান, মেক্সিকো, নাইজেরিয়া এবং ভেনেজুয়েলা।

আজ কী দাঁড়িয়ে আছে-

পরিষদের সদস্যদের নিকোলাস মাদুরোর বিচার করতে বলা হয়নি  তাদের এই মূল্যায়ন করতে বলা হয়নি যে ভেনেজুয়েলার উপর সাম্প্রতিক মার্কিন হামলা এবং চলমান নৌ অবরোধের ফলে স্বাধীনতা নাকি পরাধীনতা আসে। পরিষদের সদস্যদের আন্তর্জাতিক আইন এবং বিশেষভাবে জাতিসংঘ সনদের রক্ষা করতে বলা হয়েছে। পরমাণু যুগে, সনদ বহাল রাখতে ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেওয়া যাবে না। মানবজাতি বিলুপ্ত হবে। তৃতীয় সুযোগ থাকবে না।

নিরাপত্তা পরিষদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা- 

সনদের অধীনে তার দায়িত্ব পালন করার জন্য, নিরাপত্তা পরিষদের অবিলম্বে নিম্নলিখিত কর্মগুলি নিশ্চিত করা উচিত:

  • মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সব হুমকি বা বলপ্রয়োগ বন্ধ করতে হবে এবং তার নৌ অবরোধ শেষ করতে হবে।
  • মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে ভেনেজুয়েলার ভিতরে এবং চারপাশ থেকে তার সামরিক বাহিনী সরিয়ে নিতে হবে।
  • ভেনেজুয়েলাকে জাতিসংঘ সনদ এবং মানবাধিকার নীতি মেনে চলতে হবে।
  • মহাসচিবকে অবিলম্বে একজন বিশেষ দূত নিয়োগ করতে হবে যিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সাথে আলোচনা করবেন এবং ১৪ দিনের মধ্যে রিপোর্ট করবেন।
  • সকল সদস্য রাষ্ট্রকে নিরাপত্তা পরিষদের কর্তৃত্বের বাইরে একতরফা হুমকি বা জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা থেকে বিরত থাকতে হবে।

শেষ কথায়

প্রিয় সভাপতিমাননীয় সদস্যগণ- 

শান্তি এবং মানবতার অস্তিত্ব নির্ভর করে এই সত্যের ওপর যে জাতিসংঘ সনদ আন্তর্জাতিক আইনের একটি জীবন্ত উপকরণ হিসেবে থাকবে নাকি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে দেওয়া হবে, আজ এই পরিষদের সামনে সেই পছন্দই রয়েছে। আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।

 

অনুবাদ- অধ্যাপক ড. সুশান্ত দাস

সর্বশেষ