সরকারি দফতরে ফোন দিয়ে কারও মনোনয়ন বাতিলের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রভাব খাটানোর যে কথা ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, “আমরা এমন কোনও কাজ কোথাও করিনি। একটি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে পরিকল্পিত মিথ্যাচার করছে। গণমাধ্যমের উচিত এ বিষয়ে প্রকৃত সত্য খুঁজে বের করা।”
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়ে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্রিফিংকালে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, বরং দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্যই দ্রুত নির্বাচন দাবি করে আসছে। বৈঠকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি জানান, নবগঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সাথে পরিচিত হওয়া এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতেই এই সভা। নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন করা হবে এবং প্রতিটি টিমে নির্দিষ্ট লিডার থাকবেন। এই কমিটিগুলো মূলত দলীয় প্রার্থীদের আইনি ও সাংগঠনিক সহযোগিতা প্রদান এবং একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, “জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু গণতন্ত্র এখনও পূর্ণতা পায়নি। এর জন্য প্রয়োজন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। বিএনপি শুরু থেকেই এই নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে।” তিনি আরও বলেন, বিগত দেড় দশকে বিএনপিই সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ও গায়েবি মামলার শিকার হয়েছে, কিন্তু রাজপথ ছেড়ে যায়নি। বাংলাদেশের মানুষ বহু বছর ভোট দিতে পারেনি উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আমরা আশা করছি জনগণ এবার তাদের পছন্দনীয় প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবে। আমাদের নেতা তারেক রহমান বারবার শান্তির কথা বলেছেন। আমরা চাই মানুষ যেন স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে এবং কল্যাণমুখী একটি সরকার গঠিত হয়। ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এবং মুখপাত্র ড.মাহদী আমিন।



