সোমবার,৫,জানুয়ারি,২০২৬
13 C
Dhaka
সোমবার, জানুয়ারি ৫, ২০২৬
প্রচ্ছদসীমানা পেরিয়েভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ‘আটক’ করার দাবির পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেনভেনেজুয়েলা ও এর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘বৃহৎ পরিসরের হামলা’ চালিয়েছে।ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, অভিযানের পর প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ‘আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে’। তিনি বলেন, এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে ‘যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে’।

শনিবার ভোরে এই হামলা চালানো হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভেনেজুয়েলাবাসী যে ধরনের উত্তেজনার আশঙ্কা করছিলএই হামলাকে তারই বড় ধরনের বাস্তব রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার জন্য একে ‘নতুন ভোর’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেনভেনেজুয়েলার জন্য নতুন ভোর। স্বৈরশাসক চলে গেছে। অবশেষে সে (মাদুরোএখন তার অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি হবে।

এই হামলার ঘটনায় বিভিন্ন দেশও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এক্সে ধারাবাহিক পোস্টে লিখেছেনসারা বিশ্বকে সতর্ক করা হচ্ছেভেনেজুয়েলায় হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেনশান্তিআন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জীবন ও মানবিক মর্যাদার সুরক্ষা সব ধরনের সশস্ত্র সংঘাতের ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। পৃথক এক পোস্টে পেত্রো জানানকলম্বিয়া ভেনেজুয়েলা ও লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এই আগ্রাসন প্রত্যাখ্যান করছে। পরে তিনি ভেনেজুয়েলা সীমান্তে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণাও দেন।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াসকানেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা জানান। তিনি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলায় ‘অপরাধমূলক হামলা’ চালানোর অভিযোগ তুলে জরুরি আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানান। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেনকিউবার তথাকথিত ‘শান্তির অঞ্চল’কে নির্মমভাবে আঘাত করা হচ্ছে। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেনযা শুধু ভেনেজুয়েলার জনগণের বিরুদ্ধেই নয়বরং ‘আমাদের আমেরিকা’র বিরুদ্ধেও পরিচালিত। বিবৃতির শেষাংশে তিনি বিপ্লবী স্লোগান ‘স্বদেশ না মৃত্যুআমরা জয়ী হবো’ তুলে ধরেন। বিশ্বজুড়ে কিউবার বিভিন্ন দূতাবাসের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হাভানা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি প্রতিক্রিয়া দাবি করেছে। সেখানে হামলাকে আবারও ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়মস্কো গভীর উদ্বেগের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা এই ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’এর নিন্দা জানাচ্ছে। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছেবর্তমান পরিস্থিতিতে আরও উত্তেজনা এড়ানো এবং সংলাপের মাধ্যমে সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ খোঁজা জরুরি। তারা আরও বলেছেভেনেজুয়েলাকে অবশ্যই বাইরের কোনও ধ্বংসাত্মক সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। রাশিয়া ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি সংহতি এবং দেশটির নেতৃত্বের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান সিনেটর মাইক লি বলেনভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানানপররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর তিনি এই তথ্য পেয়েছেন। লি বলেনট্রাম্প প্রশাসন তাকে জানিয়েছেমাদুরো এখন যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকায় ভেনেজুয়েলায় আর কোনও সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা নেই। তিনি আরও বলেনমাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউপররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি কাজা কালাস জানিয়েছেনতিনি ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও কারাকাসে ইইউর রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছেন। এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেনইউরোপীয় ইউনিয়ন ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তার ভাষায়ইইউ বারবার বলেছে যে মাদুরোর বৈধতা নেই এবং তারা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে। সব পরিস্থিতিতেই আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের নীতি মানতে হবে। একই সঙ্গে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেনদেশটিতে থাকা ইইউ নাগরিকদের নিরাপত্তাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলায় উত্তেজনা কমানোসংযম এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে পেতে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছে।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেনতিনি ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেনবিশেষ করে সেখানে বসবাসরত ইতালীয় নাগরিকদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য। তিনি জানানএ বিষয়ে তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার ইতালীয় নাগরিক বসবাস করছেনযাদের অধিকাংশেরই দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে।

সূত্রআলজাজিরা

সর্বশেষ