প্রচ্ছদজাতীয়সংসদে থামছেই না ‘আশোভন’ বক্তব্য, কতগুলো এক্সপাঞ্জ হলো

সংসদে থামছেই না ‘আশোভন’ বক্তব্য, কতগুলো এক্সপাঞ্জ হলো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শুরু থেকেই স্পিকার সতর্ক করলেও ‘অশোভন’ ও ‘অশ্লীল’ বাক্য ব্যবহার থামছেই না। প্রথম অধিবেশনের ধারাবাহিকতায় চলতি বাজেট অধিবেশনেও বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়া হয়েছে। চলতি অধিবেশনে এখন পর্যন্ত অন্তত চারটি বক্তব্য বা বক্তব্যের অংশ এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে। আরও একটি বিষয় যাচাই-বাছাইয়ে রয়েছে। এছাড়া সংসদের বাইরের বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ায় একটি অভিযোগ এক্সপাঞ্জের পর্যায়ে যায়নি। অধিবেশন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রথম ও দ্বিতীয় অধিবেশনে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের বক্তব্যই তুলনামূলক বেশি এক্সপাঞ্জ হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১২ মার্চ এবং শেষ হয় ৩০ এপ্রিল। ২৫ কার্যদিবসের ওই অধিবেশনের পর ৭ জুন শুরু হয় দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশন, যা শেষ হবে ৩০ জুন। ১৮ জুন পর্যন্ত দুই অধিবেশনের মোট ৩৫ কার্যদিবস সম্পন্ন হয়েছে।এই সময়ে ‘ফ্লোর ক্রসিং’, ‘অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা’, ‘কার্যপ্রণালি বিধি না মেনে বক্তব্য দেওয়া’, ‘হুটহাট দাঁড়িয়ে কথা বলা’ এবং সংসদীয় রেওয়াজ উপেক্ষার মতো নানা বিষয়ে সংসদ সদস্যদের বারবার সতর্ক করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশোভন শব্দ ব্যবহার এবং স্পিকারের অনুমতি ছাড়া অন্য সদস্যকে লক্ষ্য করে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাও বারবার সামনে এসেছে।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ জুন দিনের কার্যসূচির শুরুতেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘সংসদ তো ফ্রি স্টাইল বক্তব্য দেওয়ার জায়গা না।’ সেদিন দিনের কার্যসূচির শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করেন স্পিকার। পরে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি নেন। এ সময় একজন সংসদ সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার জন্য দাঁড়ালে স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য, আপনি কি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়েছেন? পয়েন্ট অব অর্ডার তো চলমান বিষয়ের ওপর হয়। আপনার কারও বক্তব্যে আপত্তি আছে কিনা? কিংবা সংসদের ডিসিপ্লিন নষ্ট হয়ে গেছে, সে সম্পর্কে কিছু বলবেন?’

ওই সংসদ সদস্য কিছু বলার চেষ্টা করলে স্পিকার বলেন, ‘সংসদ তো ফ্রি স্টাইল বক্তব্য দেওয়ার জায়গা না। আইন মোতাবেক, রুলস অব প্রসিডিউর, বিধি মোতাবেক আপনাকে দাঁড়াতে হবে। তারপরও আপনারটা শুনবো, দু-একজনের বক্তব্য শুনে নেই।’ এরপর তিনি

অন্য একজন সদস্যকে বাজেটের ওপর আলোচনার সুযোগ দেন।

গত ১৮ জুন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মাওলানা মামুনুল হকের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে মুতা বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

এ বিষয়ে স্পিকার বলেন, ‘অপ্রাসঙ্গিক কোনও বিষয় বক্তব্যে না আনাই ভালো। একজন রাজনৈতিক নেতার পরকীয়া সম্পর্কে আপনি মন্তব্য করেছেন। সাধারণত নিয়ম হলো, যার এখানে এসে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তার সম্পর্কে অভিযোগ তোলা সংসদে সমীচীন নয়।’

এর আগে ১০ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে জাতীয় সংসদের ভেতরে অসহিষ্ণু আচরণ করেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তাকে উদ্দেশ্য করে স্পিকার বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু হলে চলবে না, মিস্টার আব্দুল্লাহ। দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট। এখানে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে, শুনতে হবে। আর মৌখিক কথাবার্তার স্কোপ খুবই কম। নোটিশ দেবেন, উইল বি এডুকেটেড অন দ্য নোটিসেস।’

এক্সপাঞ্জ কী

কার্যপ্রণালি বিধির ৩০৭ বিধি অনুযায়ী, বিতর্কে ব্যবহৃত অবমাননাকর, অশোভন, সংসদীয় রীতিবিরোধী বা অমর্যাদাকর শব্দ ও বক্তব্য স্পিকার সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিতে পারেন। এ প্রক্রিয়াকেই এক্সপাঞ্জ বলা হয়।

চলতি সংসদে যেসব বক্তব্য এক্সপাঞ্জ হয়েছে

ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ: গত ১৭ জুন বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়েছে।’ এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এম মাহবুব উদ্দিন খোকন আপত্তি জানিয়ে এক্সপাঞ্জের দাবি তোলেন। তবে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান এর বিরোধিতা করেন। পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ‘ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়েছে’ অংশটুকু এক্সপাঞ্জ করেন।

চালুনি-সুঁচের গল্পে ‘অশ্লীল শব্দ’: গত ১৬ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার সরকার একটি উপমা ব্যবহার করেন। তিনি একটি গল্প তুলে ধরে বলেন, ‘আমি প্রস্তাবনা পেশ করছি, মাননীয় স্পিকার। এক একটা গল্প বলতে হয়, চালুনি এবং সুঁচের কথোপকথন।’ এরপর তিনি এ-সংক্রান্ত উপমা ব্যবহার করেন। এ সময় মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে আবার মাইক পেয়ে একই উদাহরণ তুলে ধরেন ওই সংসদ সদস্য।

এ সময় ব্যবহৃত কিছু শব্দের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে স্পিকার তাকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, বক্তব্য রাখার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অরুচিকর ও অশ্লীল কোনও কথা সংসদে উচ্চারিত হওয়া কাম্য নয়। বক্তব্যে ব্যবহৃত কিছু শব্দ এক্সপাঞ্জ করা হলো। ‘মানিক চোরার মতো’ শব্দবন্ধ: গত ৯ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল-২০২৬ ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল-২০২৬ পাসের বিরোধিতা করে বিরোধী দলের সদস্য আখতার হোসেন বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, ‘বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার সময় রাষ্ট্রপতিকে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সেটা করতে হয়। তখনই শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদের মতো, মানিক চোরার মতো ব্যক্তিরা হাসিনার দ্বারা বিচারপতি নিয়োগ হয়েছিল। এ ধরনের একটা পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামনের দিনে চলুক, এটা তো আমরা কেউই চাই না।’

তার বক্তব্যের ‘মানিক চোরার মতো’ অংশটুকু এক্সপাঞ্জ করেন স্পিকার। তিনি সংসদকে জানান, একজন বিচারপতির নামের সঙ্গে একটি বিশেষণ যুক্ত করে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। সেটি এক্সপাঞ্জ করা হলো।বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ: গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ এবং নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অধিবেশন। সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যকে ‘অমার্জনীয় অপরাধ’ ও ‘বর্ণবাদী আচরণ’ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম।

জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও নিয়মকানুন নিয়ে তর্ক-বিতর্ক তৈরি হয়। ঘটনার সূত্রপাত হয় মনিরুল হক চৌধুরীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে।

পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত ও সংসদীয় রীতিনীতিবহির্ভূত অংশ ইতোমধ্যে এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে স্পিকার রুলিং দিয়ে বলেন, সংসদে বসে কেউ কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলতে পারবেন না এবং সবাইকে সংসদের মর্যাদা ও নিজস্ব ডিগনিটি বজায় রাখতে হবে। এমপির বিরুদ্ধে সংসদের বাইরে নারী এমপিদের কটাক্ষের অভিযোগ: গত ২ এপ্রিল জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমি এবং আমার আরও দুজন নারী সহকর্মীর বিরুদ্ধে এই সংসদে উপস্থিত আরেকজন সংসদ সদস্য যে কদাকার, কুৎসিত ভাষায় ওয়াজ মাহফিল করেছেন, যে কুৎসিত ভাষায় তারা বক্তব্য দিয়েছেন, আমি আপনার কাছে এই ব্যাপারে বিচার চাইছি।’ তবে বিষয়টি সংসদের বাইরের হওয়ায় এক্সপাঞ্জের পর্যায়ে যায়নি।

আর গত ১৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সময় ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যদের অশালীন অঙ্গভঙ্গির তীব্র নিন্দা জানান বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। একইসঙ্গে সংসদে কথা বলার ক্ষেত্রে সিরিয়ালিটি বা পর্যায়ক্রম বজায় রাখার জন্য স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। চিফ হুইপ নূরুল ইসলামও পর্যায়ক্রম বজায় রাখার আহ্বান জানান। সংবর্ধনা নিয়ে বক্তব্য এক্সপাঞ্জ চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: গত ১০ জুন সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক ব্যক্তির গাড়িতে চড়ে সংবর্ধনা নিয়েছেন।’

এর জবাবে সালাউদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, তিনি কোনও ব্যক্তির গাড়িতে চড়ে সংবর্ধনা নেননি। বিদেশ থেকে ফেরার পর নিজের গাড়িতেই সংবর্ধনা নিয়েছিলেন। কক্সবাজারে একটি জনসভায় যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে প্রচুর মানুষের ভিড় থাকায় নিজের গাড়িতে ওঠা সম্ভব হয়নি। পরে সমর্থকদের ব্যবস্থাপনায় একটি পুরোনো গাড়িতে ওঠেন, যা কোনও ব্যক্তির নামে ছিল না বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তিনি আগেই জনগণের সামনে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি পুরোনো এবং নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। তাই বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানান তিনি। স্পিকার বিষয়টি পরে যাচাই-বাছাই করে দেখবেন বলে জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত বিষয়টি এক্সপাঞ্জ হয়নি।

সংসদীয় রেওয়াজ না মানার প্রবণতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শুরু থেকেই সংসদীয় রীতি-নীতি ও রেওয়াজ না মানার প্রবণতা লক্ষণীয়। দফায় দফায় স্পিকার সতর্ক করলেও দ্বিতীয় অধিবেশনের দশম দিন পর্যন্ত তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান বলেন, আগে নতুন সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। এখন সেই প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। অনেক নতুন সদস্যের সংসদীয় কার্যপ্রণালি সম্পর্কে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা নেই। এমনকি অনেকে রুলস অব প্রসিডিউরও ঠিকমতো পড়েন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য, অনেক রাজনৈতিক নেতা আছেন, সবাই নয়, যারা সংসদীয় রীতিনীতি নিয়ে লেখাপড়া করার ব্যাপারে আগ্রহী নন। আমার যতটুকু অভিজ্ঞতা আর যা আমি দেখেছি। তবুও আমাদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার চেষ্টা করছেন, সত্যিকার অর্থে সবাইকে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার এবং একইসঙ্গে শালীনতা ও শিষ্টাচারের মধ্যে থেকে তারা যেন নিজেদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখেন। আশা করি আমাদের সংসদ সদস্যরা এটা আমলে নেবেন। এটা সবার স্বার্থে। তা না হলে তাদের সম্পর্কে মানুষের খারাপ ধারণা তৈরি হবে।’

প্রশিক্ষণ বা ওরিয়েন্টেশন অপর্যাপ্ত

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ সচিবালয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি, প্রশ্নোত্তর, নোটিশ, বিল ও কমিটি ব্যবস্থা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন, ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংসদীয় সহযোগিতা কর্মসূচিও সংসদীয় চর্চা ও আইন প্রণয়ন বিষয়ে সহায়তা করে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) দীর্ঘদিন ধরে সংসদ সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন, কমিটি কার্যক্রম, বাজেট পর্যালোচনা ও সংসদীয় দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে।

এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোও নিজস্ব উদ্যোগে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আগে বিএনপি তাদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য দুই দিনের কর্মশালার আয়োজন করে। গত ৩ ও ৪ জুন সংসদ সচিবালয় ও ইউএনডিপি যৌথভাবে ৩০০-এর বেশি নতুন সংসদ সদস্যকে নিয়ে দুই দিনের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি আয়োজন করে। সেখানে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, মন্ত্রী এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন।

প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে ইউএনডিপি, ইউএসএইডসহ যারা প্রশিক্ষণ দিত, বিগত সময়ে তার কোনোটাই পুরোপুরি সচল হয়নি, মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ তারা দেখেছে, আমাদের সংসদ সদস্যরা প্রশিক্ষণের চেয়ে বিদেশ ভ্রমণে বেশি আগ্রহী। আমি আশা করি, এখন এটার পরিবর্তন হবে। আমাদের পরিবর্তন যদি করতে হয়, তাহলে স্থানীয় সরকারকে সংসদ থেকে দূরে রাখতে হবে। আর যারা সংসদীয় কার্যক্রমে, আইন প্রণয়নে, সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিতকরণে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে নীতিনির্ধারণী বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আকৃষ্ট, তাদেরই সংসদে আনা দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সংসদ সদস্যদের যখন স্থানীয় উন্নয়নে যুক্ত করা হয়, যেটা অসাংবিধানিক। আদালতের রায়ের পরও এসব ভালো নয়। রাজনৈতিক দলগুলোরও সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান থাকা দরকার। যাদের নিয়ে আসছে, তাদের যেন পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে। যারা মনোনয়নযোগ্য নন, এমন ব্যক্তিরাও মনোনয়ন পেয়েছেন। আমরা আশা করেছিলাম, গণঅভ্যুত্থানের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হবে। কিন্তু যা হয়েছে, সেক্ষেত্রে প্রশ্ন থেকেই যায়। আমাদের কয়েকজন ঋণখেলাপিকেও এখনও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’

সর্বশেষ