প্রচ্ছদজাতীয়১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক আকাশে জমেছে অস্থিরতার ঘনঘটা, টিআইবি

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক আকাশে জমেছে অস্থিরতার ঘনঘটা, টিআইবি

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক আকাশে জমেছে অস্থিরতার ঘনঘটা। প্রচারণার মাঠ থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়, সর্বত্রই নিয়ম ভঙ্গের মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশ এক গভীর সংকটে পড়তে পারে।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান আজ সংবাদ সম্মেলনে একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন, যা নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সততা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী,  প্রায় ৩৩.৮ শতাংশ প্রার্থী নির্ধারিত নির্বাচনী ব্যয়সীমা মানছেন না। অনেক ক্ষেত্রে এই ব্যয়ের গড় অংক ১.১৯ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

অনলাইন এবং অফলাইন- উভয় মাধ্যমেই প্রচারণা চালাতে গিয়ে প্রার্থীরা আচরণবিধি তোয়াক্কা করছেন না। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা শুরু এবং সরকারি সম্পত্তিতে পোস্টার লাগানোর মতো ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। অনেক প্রার্থী প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছেন, এমনকি দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের হুমকির ঘটনাও নথিবদ্ধ করেছে টিআইবি।

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইসির যে দৃঢ়তা প্রয়োজন ছিল, তার দৃশ্যমান অভাব রয়েছে। সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়টি হলো গণভোট। টিআইবি মনে করে, ইসি নির্বাচন ও গণভোটকে যেভাবে সমার্থক হিসেবে প্রচার করছে, তা আইনি ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। সরকার ও কমিশনের পক্ষ থেকে গণভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে অযাচিত বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।

সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে, তারা নীতিগতভাবে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকলেও প্রক্রিয়াগত অস্বচ্ছতা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। টিআইবি’র পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজপথে অস্থিরতা তত বাড়ছে। সহিংসতা ও উগ্রপন্থা যেভাবে ডালপালা মেলছে, তাতে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ভীতি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে বলেন, “নির্বাচন আয়োজনের নামে যদি কেবল আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা করা হয় এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, তবে তা গণতন্ত্রের জন্য আত্মঘাতী হবে।

সংবাদ সম্মেলনের ইতি টেনে টিআইবি জানায়, কেবল একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানই যথেষ্ট নয়; বরং সেই নির্বাচন যেন জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে দুর্নীতিবাজ, দখলদার এবং মামলাবাজদের রুখে দিতে না পারলে ‘ইনসাফ ভিত্তিক’ বাংলাদেশের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। সংস্থাটি নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে আগামী কয়েক দিনে অস্থিতিশীলতার এই ঝুঁকি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা যায়।

সর্বশেষ