সামাজিক চেতনা ও মানব বিকাশের একটি দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী ব্যাখ্যা
সারসংক্ষেপ:
মানুষ কেবল প্রকৃতির মধ্যে নিষ্ক্রিয়ভাবে উদ্ভূত কোনো জৈবিক সত্তা নয়। মানবতা মূলত ইতিহাস ও সমাজ দ্বারা গঠিত, এবং সেই গঠনের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে শ্রম। শ্রমই মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যকার মধ্যস্থতাকারী সম্পর্ক, যার মাধ্যমে মানুষ বাহ্যিক জগতকে রূপান্তরিত করে এবং একই সঙ্গে নিজেকেও রূপান্তরিত করে। এই প্রবন্ধে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে যে, শারীরিক ও মানসিক—উভয় প্রকার শ্রমই মানব অস্তিত্ব, চেতনা, জ্ঞান এবং সভ্যতার অস্তিত্ব তাত্ত্বিক ভিত্তি। প্রকৃতির সঙ্গে উৎপাদনমূলক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে মানুষ প্রকৃতির নিয়মকে জানতে শেখে, বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বিমূর্ত ধারণা নির্মাণ করে, এবং বিজ্ঞান, দর্শন ও সামাজিক সংগঠনের বিকাশ ঘটায়। ফলে মানব চেতনা কোনো বিচ্ছিন্ন অধিবিদ্যাগত সত্তা নয়; বরং তা সামাজিক-উৎপাদনমূলক কার্যপ্রক্রিয়ার দ্বান্দ্বিক ফল। প্রবন্ধটি এই ধারণাকে Karl Marx ও Friedrich Engels-এর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের আলোকে বিশ্লেষণ করেছে এবং একই সঙ্গে বৃহত্তর দার্শনিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক ধারার সঙ্গে সংলাপে প্রবেশ করেছে। এখানে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, বাস্তব উৎপাদনমূলক কর্মকাণ্ড ও বৌদ্ধিক বিমূর্তনের ঐক্যই সেই গতিশীল প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে মানুষ ঐতিহাসিকভাবে মানুষে পরিণত হয়।
ভূমিকা:
মানুষের প্রকৃত সত্তা কী—এই প্রশ্ন বহু শতাব্দী ধরে দর্শন, নৃতত্ত্ব ও সমাজতত্ত্বের অন্যতম মৌলিক অনুসন্ধান। ভাববাদী দর্শন সাধারণত চেতনাকে প্রধান বাস্তবতা হিসেবে দেখেছে, অন্যদিকে যান্ত্রিক বস্তুবাদ মানুষকে নিছক জৈবিক অস্তিত্বে সীমাবদ্ধ করেছে। কিন্তু দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে। এই দৃষ্টিতে মানুষ কেবল আত্মিক সত্তা নয়, আবার নিছক জৈব পদার্থও নয়; বরং সে এক ঐতিহাসিক ও সামাজিক সত্তা, যার গঠন ঘটে শ্রমের মধ্য দিয়ে। মানুষই একমাত্র পরিচিত প্রাণী, যে সচেতন ও সামাজিকভাবে উৎপাদন করে। মানুষ কেবল প্রবৃত্তিগতভাবে প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয় না; বরং উদ্দেশ্যমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রকৃতিকে রূপান্তরিত করে। এই রূপান্তরমূলক সম্পর্কেই শ্রম হয়ে ওঠে সেই মাধ্যম, যার দ্বারা মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে, সমাজ সৃষ্টি করে, জ্ঞান উৎপন্ন করে এবং চেতনার বিকাশ ঘটায়। এই প্রবন্ধে দেখানো হবে যে শ্রম কেবল অর্থনৈতিক কার্যকলাপ নয়; এটি মানব হয়ে ওঠার অস্তিত্ব তাত্ত্বিক ভিত্তি। বাস্তব উৎপাদনমূলক সম্পৃক্ততা ও বৌদ্ধিক বিমূর্তনের দ্বান্দ্বিক ঐক্যের মধ্য দিয়েই মানুষ বস্তুগত সভ্যতা ও জ্ঞানব্যবস্থা নির্মাণ করে। অতএব মানব চেতনা সামাজিক অনুশীলন ও উৎপাদনমূলক কার্যকলাপের ঐতিহাসিক ফল।
মানব অস্তিত্বের ভিত্তি হিসেবে শ্রম:
মানুষকে শ্রম সৃষ্টি করেছে—এই ধারণাটি সবচেয়ে গভীরভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন এঙ্গেলস তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ The Part Played by Labour in the Transition from Ape to Man-এ। এঙ্গেলস দেখিয়েছিলেন যে মানুষের হাত, মস্তিষ্ক, ভাষা ও সামাজিক সহযোগিতা সম্মিলিত শ্রমপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিকশিত হয়েছে। শ্রম কেবল বাহ্যিক পরিবেশকেই বদলায়নি; এটি মানুষকেও রূপান্তরিত করেছে। অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় মানুষের বিশেষত্ব এই যে, মানুষ সচেতন ও সামাজিকভাবে উৎপাদন করে। প্রাণীরা খাদ্য সংগ্রহ বা আশ্রয় নির্মাণ করতে পারে, কিন্তু মানুষের উৎপাদন তাৎক্ষণিক জৈবিক প্রয়োজনের সীমা অতিক্রম করে। মানুষ যন্ত্র, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, শিল্প, দর্শন ও প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করে। মানব উৎপাদন সঞ্চিত, ঐতিহাসিক এবং সামাজিক।
অতএব শ্রমের দ্বৈত চরিত্র রয়েছে—
এটি প্রকৃতিকে বস্তুগতভাবে রূপান্তরিত করে,
এবং মানুষকে সামাজিক ও বৌদ্ধিকভাবে রূপান্তরিত করে।
এই অর্থে মানুষ একই সঙ্গে শ্রমের স্রষ্টা এবং শ্রমের ফল।
উৎপাদনমূলক কার্যকলাপের বিকাশ সামাজিক সহযোগিতা, ভাষা, প্রতীকী যোগাযোগ এবং জটিল সামাজিক সংগঠনের জন্ম দেয়। শ্রমের মধ্য দিয়েই বিচ্ছিন্ন জৈবিক প্রাণী ঐতিহাসিক-সামাজিক মানুষে পরিণত হয়।
প্রকৃতি এবং বাস্তবতার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক:
মানুষ প্রকৃতির অন্তর্গত এবং প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু মানুষ প্রকৃতির সামনে নিষ্ক্রিয় নয়। শ্রমের মাধ্যমে মানুষ সামাজিক প্রয়োজন অনুসারে প্রকৃতিকে পুনর্গঠিত ও রূপান্তরিত করে। কৃষি প্রকৃতির ভূমিকে সংগঠিত উৎপাদনে রূপান্তর করেছে। ধাতুবিদ্যা খনিজকে উৎপাদনের উপকরণে পরিণত করেছে। শিল্পায়ন শক্তিকে প্রযুক্তিগত ক্ষমতায় রূপান্তর করেছে। বিজ্ঞান প্রাকৃতিক নিয়মকে উৎপাদনশক্তিতে রূপান্তরিত করেছে। এখানে মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে এক দ্বান্দ্বিক ঐক্য বিদ্যমান। মানুষ প্রকৃতিরই অংশ, কিন্তু শ্রমের মাধ্যমে সে প্রকৃতির সঙ্গে এমন এক মধ্যস্থ সম্পর্ক স্থাপন করে, যার ফলে প্রকৃতিকে সচেতনভাবে রূপান্তর করা সম্ভব হয়। মার্কস শ্রমকে মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যকার “metabolism” বা বস্তুবিনিময় প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। কিন্তু এই সম্পর্ক কেবল অর্থনৈতিক নয়; এটি জ্ঞানতাত্ত্বিকও।
মানুষ প্রকৃতির নিয়মকে জানতে শেখে প্রকৃতির উপর কার্যকরী হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে। জ্ঞান নিছক বিমূর্ত ধ্যান থেকে জন্ম নেয় না; বরং বাস্তব কর্মকাণ্ড থেকেই তার উদ্ভব।
ইতিহাসে বিজ্ঞানের বিকাশও উৎপাদনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত—
যন্ত্রবিজ্ঞান এসেছে কারিগরি অভিজ্ঞতা থেকে,
জ্যামিতি এসেছে কৃষি ও স্থাপত্য থেকে,
জ্যোতির্বিজ্ঞান এসেছে নৌচালনা ও কৃষির প্রয়োজন থেকে,
তাপগতিবিদ্যা এসেছে শিল্পযন্ত্রের বিকাশ থেকে।
অতএব অনুশীলন বিমূর্ততার পূর্বশর্ত। মানুষ প্রথমে প্রকৃতির উপর কাজ করে, তারপর অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা, নিয়ম ও তত্ত্ব নির্মাণ করে।
জ্ঞান বিকাশের এই দ্বান্দ্বিক ধাপগুলি হলো—
১. বস্তুগত সম্পৃক্ততা,
২. বাস্তব অভিজ্ঞতা,
৩. বিমূর্তন,
৪. ধারণা নির্মাণ,
৫. এবং পুনরায় বাস্তব প্রয়োগ।
অতএব জ্ঞান সামাজিক উৎপাদন থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।
বাস্তব উৎপাদন ও বিমূর্ত চেতনা:
মানুষের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সে বাস্তব উৎপাদন থেকে নিজেকে বিমূর্ত করতে পারে। মানুষ কেবল সরাসরি শ্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; সে অভিজ্ঞতার উপর চিন্তা করতে পারে, সাধারণীকরণ করতে পারে, ধারণা নির্মাণ করতে পারে এবং প্রতীকী চিন্তার জগৎ সৃষ্টি করতে পারে।
এই বিমূর্তন থেকেই জন্ম নেয় দর্শন, বিজ্ঞান, গণিত, নৈতিকতা ও সংস্কৃতি। কিন্তু বিমূর্ত চিন্তা বস্তুগত জীবন থেকে স্বাধীন নয়। চেতনার বিকাশ সামাজিক অনুশীলনের মধ্য দিয়েই ঘটে। মানুষের চিন্তা শ্রম ও সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই গঠিত। এই ধারণা ভাববাদী দর্শনের বিরোধিতা করে, কারণ ভাববাদ চেতনাকে বস্তুগত বাস্তবতা থেকে স্বতন্ত্র বলে মনে করে। একই সঙ্গে এটি যান্ত্রিক বস্তুবাদের সীমাবদ্ধতাকেও অতিক্রম করে, কারণ যান্ত্রিক বস্তুবাদ প্রতিফলনশীল চেতনার উদ্ভব ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ। দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ এই বিরোধের সমাধান করে চেতনাকে ঐতিহাসিকভাবে সংগঠিত সামাজিক শ্রমের উদ্ভূত বৈশিষ্ট্য হিসেবে ব্যাখ্যা করে।
এই প্রক্রিয়ায়—
শ্রম বাস্তবতার সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক স্থাপন করে,
বিমূর্তন অভিজ্ঞতাকে জ্ঞানে রূপান্তরিত করে,
জ্ঞান পুনরায় উৎপাদনকে সংগঠিত করে,
এবং পরিবর্তিত উৎপাদন সমাজকে পুনর্গঠিত করে।
অতএব তত্ত্ব ও অনুশীলন পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়; তারা দ্বান্দ্বিকভাবে ঐক্যবদ্ধ।
সামাজিক উৎপাদন ও মানব বিকাশ:
উৎপাদন ছাড়া মানব সমাজের অস্তিত্ব সম্ভব নয়। খাদ্য, বাসস্থান, পরিবহন, চিকিৎসা, যোগাযোগ, প্রযুক্তি—সবই সম্মিলিত শ্রমের ফল। ফলে উৎপাদনই সামাজিক অস্তিত্বের ভিত্তি।
মার্কস দেখিয়েছিলেন যে সামাজিক অস্তিত্বই চেতনাকে নির্ধারণ করে। মানুষের ধারণা, আইন, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সংস্কৃতি বস্তুগত সামাজিক সম্পর্কের উপর দাঁড়িয়ে থাকে।
উৎপাদনশক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সমাজও পরিবর্তিত হয়—
কৃষিভিত্তিক উৎপাদন স্থায়ী সভ্যতার জন্ম দিয়েছে,
শিল্প উৎপাদন পুঁজিবাদ ও আধুনিক শ্রেণি কাঠামো সৃষ্টি করেছে,
ডিজিটাল উৎপাদন তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করেছে।
মানুষের চেতনা এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়, কারণ সামাজিক জীবন নিজেই ঐতিহাসিকভাবে পরিবর্তনশীল।
অতএব মানুষ কোনো স্থির সত্তা নয়; সে ইতিহাসের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়।
মানব হয়ে ওঠার দ্বান্দ্বিকতা:
মানুষ জন্মগতভাবে পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক মানুষ নয়; বরং সামাজিক অনুশীলনের মধ্য দিয়ে ক্রমাগত মানুষে পরিণত হয়।
এই দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে এভাবে প্রকাশ করা যায়—
১. প্রকৃতি বস্তুগত শর্ত প্রদান করে।
২. শ্রম প্রকৃতিকে রূপান্তরিত করে।
৩. শ্রম সামাজিক সহযোগিতা সৃষ্টি করে।
৪. সামাজিক সহযোগিতা ভাষা ও প্রতীকী যোগাযোগ সৃষ্টি করে।
৫. বাস্তব অভিজ্ঞতা বিমূর্ত চিন্তার জন্ম দেয়।
৬. বিমূর্তন জ্ঞান ও বিজ্ঞানে পরিণত হয়।
৭. জ্ঞান পুনরায় উৎপাদন ও সমাজকে সংগঠিত করে।
৮. পরিবর্তিত সমাজ পুনরায় মানব চেতনাকে রূপান্তরিত করে।
এই প্রক্রিয়া পারস্পরিক ও গতিশীল। মানুষ জগতকে পরিবর্তন করে এবং একই সঙ্গে নিজেকেও পরিবর্তন করে।
অতএব মানুষ—
একটি প্রাকৃতিক সত্তা,
একটি উৎপাদনশীল সত্তা,
একটি সামাজিক সত্তা,
এবং একটি সচেতন ঐতিহাসিক সত্তা।
এই সমস্ত মাত্রার ঐক্যই মানব অস্তিত্বের প্রকৃত ভিত্তি।
সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা:
আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজ মানসিক শ্রম ও শারীরিক শ্রমকে বিচ্ছিন্ন করে দেখায় এবং বৌদ্ধিক কাজকে উৎপাদনশীল শ্রমের উপরে স্থান দেয়। এই বিভাজন জ্ঞানের বস্তুগত ও সামাজিক ভিত্তিকে আড়াল করে কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ এখনও শ্রমপ্রক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল। উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তিও বৈশ্বিক খনিজ উত্তোলন, শিল্প উৎপাদন, জ্বালানি, পরিবহন ও মানব শ্রমের উপর দাঁড়িয়ে আছে। অন্যদিকে বর্তমান পরিবেশগত সংকটও মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্কের গভীর বিরোধকে প্রকাশ করছে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক বোঝা আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার:
মানুষ শ্রমের ঐতিহাসিক ফল। শ্রমের মাধ্যমে মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে সচেতন ও রূপান্তরমূলক সম্পর্ক স্থাপন করে, সামাজিক সহযোগিতা গড়ে তোলে, জ্ঞান সৃষ্টি করে এবং সভ্যতা নির্মাণ করে। উৎপাদনমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তি তৈরি করে, আর সেই অভিজ্ঞতা থেকে বিমূর্তনের মাধ্যমে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। পুনরায় সেই জ্ঞান উৎপাদনশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে সমাজ ও চেতনাকে নতুনভাবে গঠন করে। অতএব মানব চেতনাকে সামাজিক অনুশীলন থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বোঝা যায় না। মানুষ শ্রম, প্রকৃতি, উৎপাদন, বিমূর্তন ও সামাজিক সম্পর্কের দ্বান্দ্বিক ঐক্যের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিকভাবে মানুষে পরিণত হয়। এই অর্থে শ্রম কেবল অর্থনৈতিক প্রয়োজন নয়; এটি মানব হয়ে ওঠার অস্তিত্বতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক ভিত্তি।
লেখক- অধ্যাপক ড. এস কে দাস



