শুক্রবার,২,জানুয়ারি,২০২৬
15 C
Dhaka
শুক্রবার, জানুয়ারি ২, ২০২৬
প্রচ্ছদরাজনীতিনির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’— নিশ্চিত না হয়, তাহলে ভোটের মাঠে থাকার বিষয়ে...

নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’— নিশ্চিত না হয়, তাহলে ভোটের মাঠে থাকার বিষয়ে জাতীয় পার্টি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধার দুটি সংসদীয় আসন— গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) ও গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি)— থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তবে জেলার অপর তিনটি গাইবান্ধা-২ (সদর), গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) ও গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে একক প্রার্থী হিসেবে দলটির তিন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধা-১ আসনের প্রার্থী হিসেবে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলির কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন শামীম হায়দার পাটোয়ারী। এর আগে গাইবান্ধা-৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তিনি।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয় পার্টির মহাসচিব দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি একটি গণতান্ত্রিক দল। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বলেই আমরা নির্বাচনের পথে এসেছি। তবে যদি নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’—অর্থাৎ সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না হয়, তাহলে ভোটের মাঠে থাকার বিষয়ে জাতীয় পার্টি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে। তিনি আরও বলেন, প্রার্থীদের নিরাপত্তা, ভোটারদের নিরাপত্তা এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারবে— এই গ্যারান্টি যদি থাকে, তাহলেই জাতীয় পার্টি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে।

নির্বাচনি পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সব কার্যক্রম আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। জোট রাজনীতি প্রসঙ্গে শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, বিএনপির সঙ্গে আসনভিত্তিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনার চেষ্টা চলছে। আলোচনা ফলপ্রসূ হলে যৌথভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে সমঝোতা না হলে জাতীয় পার্টি স্বতন্ত্রভাবেই নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

তিনি আরও জানান, জাতীয় পার্টির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের জন্য আগ্রহী ও মুখিয়ে রয়েছেন। তাদের প্রত্যাশার কথা বিবেচনায় নিয়েই দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনিরাম গ্রামের সন্তান। তিনি জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের উপদেষ্টা এবং দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি ২০১৮ সালে গাইবান্ধা-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছরের একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি ওই আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। চলতি বছরের ৭ জুলাই তাকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এবার মহাসচিব হিসেবে তিনি গাইবান্ধার দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে, গাইবান্ধা জেলার অপর তিনটি আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থীরা হলেন— গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রশিদ সরকার, গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী–সাদুল্লাপুর) আসনে মইনূর রাব্বি চৌধুরী রুমান ও গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে কাজী মশিউর রহমান। মনোনীত এসব প্রার্থী এর আগেও জাতীয় পার্টির ব্যানারে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন এবং নিজ নিজ এলাকায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।

সর্বশেষ