প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রীনল্যান্ড ডিল: তেলের জন্য ভেনিজুয়েলা : অভিবাসী অভিযোগে মেক্সিকোতে হামলার হুমকি : গণআন্দোলন গুলির কারণে ইরানে হামলার হুমকি : জার্মান প্রেসিডেন্টকে মাদুরোর মতো অপহরণের হুমকি : শীর্ষ তেল কোম্পানিগুলোর সাথে ভেনিজুয়েলার তেল আহরণের বৈঠক : কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টকে হুমকি : ক্যারিবীয় সাগরে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী মুখোমুখি : ট্রাম্পের বিশ্ব শাসনের নীতি নৈতিকতার ব্যাখ্যা কি: অর্থনীতি নাকি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রম অবক্ষয়মান অর্থনীতিকে ঠেকানোর অপচেষ্টা বা দস্যুতা: এটা কি মনোপলি বা একচেটিয়া পুঁজির একচেটিয়া সংকট : অনেক প্রশ্ন: জবাবও নানামুখী :
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বে যা কিছু করছেন তা সকলেই অবহিত আছেন। তিনি একই সাথে এতকিছু করছেন তা লেখার আগেই তিনি অন্য আর একটা ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন। তবুও যে ঘটনাগুলো ঘটে গেছে সেই সব নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এখনো যুক্তরাষ্ট্রের জেলে। ভেনিজুয়েলার তেল ভাগ করার জন্য ওয়াশিংটনে ট্রাম্প এখন বৈঠক করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনিজুয়েলার ক্রুড অয়েল উত্তোলনের খরচ দিয়ে কোম্পানিগুলো মুনাফা তুলতে পারবে না। কারণ তেলের দাম এখন নিম্নমুখী।কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে কোম্পানিগুলো লাভের মুখ দেখতে কয়েক বছর লেগে যাবে। নিকোলাস মাদুরো এবং ভেনিজুয়েলার তেল উভয়ই ট্রাম্পের গলার কাঁটা হয়ে যাবে। আর ক্যারবীয় সাগরে রাশিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের নৌযুদ্ধ একটা মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
মেক্সিকো আক্রমণ ট্রাম্পের জন্য সহজ।কিন্তু তা হবে অনেকটা আত্মঘাতী। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির সংকট আরও বাড়বে। সবচেয়ে খারাপ হবে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণ থেকে গ্রীনল্যান্ড কেড়ে নেওয়া বা দখল করা বা কিনে নেওয়া। ডেনমার্ক বলেছে গুলি করবে। ট্রাম্প বলেছেন গ্রীনল্যান্ডের প্রতিটি নাগরিককে এক লাখ ডলার করে দিবেন। ট্রাম্প এখানেও রাশিয়া ও চীনের ভূত দেখছেন। তিনি বলছেন, গ্রীনল্যান্ড রাশিয়া ও চীনের উপস্থিতি থেকে মুক্ত করতে হবে। এখানে সম্পদ ও নিরাপত্তার প্রশ্নকে এক করে খেলছেন। এতে ইউরোপ ও ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রের হাত থেকে বের হয়ে যাবে।
প্রশ্ন হলো ট্রাম্প বেপরোয়া কেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীলতা হলেও দেশের ঋণ ভয়াবহ বেড়েছে। চীনের সাথে পাল্লা দিয়ে পারছে না। যুক্তরাষ্ট্রের মনোপলি পুঁজির মালিক বা কোম্পানিগুলো মুনাফা, ফিনান্স এবং অস্ত্রকে একসারিতে নিয়ে এসেছে। আগে অর্থনীতি ও স্বাধীনতার কথা বলে সামরিক হামলা হতো এখন সামরিক হস্তক্ষেপ আগে তারপর দখলকৃত সম্পদ ভাগাভাগি। গনতন্ত্রের খেলা নেই। এখন রেজিম চেইঞ্জ নেই। সরকার প্রধানকে অপহরণ করো।তার সম্পদের দখল নাও। এই পদক্ষেপগুলো অর্থনীতিকে একটা বিশৃঙ্খল ও দেউলিয়া করে দেবে। আগামীতে বিশ্বের রাজনৈতিক ব্যবস্থাও একটা ভাগাভাগিতে চলে যাবে। আশা কি? আশা নেই। শুধু আশা যদি যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ এর প্রতিবাদ করে। তৃতীয় বিশ্বে প্রতিবাদ নেই আছে যুক্তরাষ্ট্রের শিখণ্ডী। এইসব সামরিক হস্তক্ষেপ বুঝতে গেলে মনোপলি পুঁজির বিকাশ ও সংকটকে বুঝতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে জনমত কোথায় যাচ্ছে তা অনুসরণ করতে হবে। বিশ্ব পুঁজিবাদী ব্যবস্থার রাজনৈতিক অর্থনীতিকে নতুন ভাবে বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করার সময় এসেছে। পুরনো ধাঁচে ব্যাখ্যায় আর কাজ করছে না।
লেখক- শরীফ শমশির
লেখক ও গবেষক



