22 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১

অনলাইন টিভি

Bangladesh
544,544
কোভিড-১৯ সর্বমোট আক্রান্ত
Updated on February 25, 2021 5:25 AM
Home সম্পাদকীয় করোনায় কর্মহীন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, গরিব-মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

করোনায় কর্মহীন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, গরিব-মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

চালের দাম গগণ ছোঁয়া। ডালের দামও কম নয়। ভোজ্যতেল এখন লাগামহীন। গরিবের আলু পরিণত হয়েছে বড়লোকী পণ্যে। পেঁয়াজের ঝাঁজ কমলেও কাঁচাবাজারে সবজিতে দামের ঝাঁজ কমেনি। কৃষক সবজির দাম ঠিকমতো পায় না। কিন্তু বাজারে বাড়তি দামেই কিনতে হয় ক্রেতাকে। মাঝখানে মুনাফা লুটছে ফড়িয়া, মধ্যস্বত্ত্বভোগী আর বাজার সিন্ডিকেট। এরা সব সময়ই মুনাফা লুটে। এদের হাত অনেক লম্বা। এত লম্বা যে বার বার পদক্ষেপ নিয়েও সরকার থামাতে পারে না। এই বাজার সিন্ডিকেটই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায়। অসহায় সাধারণ ক্রেতা। অনেকটা অসহায় সরকারও। পদক্ষেপ নিলেই বাজার বন্ধের হুমকি দেয়। ফলে সবকিছু চলছে দেদারছে। এখানেই শেষ নয়। বাড়ছে বাসাভাড়া, পানি, গ্যাস, বিদ্যুতের বিল। ছেলে-মেয়ের পড়ালেখার খরচও বাড়ছে ফি-বছর। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সিন্ডিকেট মানুষের পকেট কাটছে। হু হু করে বাড়ছে ওষুধের দাম। সবখানেই কেবল খরচ আর খরচ। কিন্তু আয়! তা ক্রমেই কমছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনায় বিপর্যস্ত বিশ্ব অর্থনীতি। ধাক্কা লেগেছে বাংলাদেশেও। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্মবিত্ত মানুষ। মধ্যবিত্তরাও চিড়ে চ্যাপ্টা হচ্ছেন। অধিকাংশের কর্ম নেই। যাদের আছে তাদেরও বেতন অর্ধেক কমেছে। বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে বেতন হয় না। ফলে মানুষের আয় কমেছে। এই কমের মধ্যেই জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। বাড়তি ব্যয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণের। করোনাকালে বাসাভাড়া দিতে না পেরে অনেকেই ঢাকা ছেড়েছেন। সেখানেও শান্তি নেই। নিত্যপণ্যের দামবৃদ্ধির ধাক্কা লেগেছে গ্রামেও। পরিবার-সমাজে লজ্জায় দিন কাটছে লাখো পরিবারের। সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় মহাসংকটে দিন পার করছে লাখ লাখ নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরিবরা রাস্তায় নেমেছেন সাহায্যের জন্য, আর মধ্যবিত্তরা লজ্জায় মুখ লুকিয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপও বলছে, ‘কোভিড-১৯ এর কারণে দরিদ্র মানুষের বেহাল অবস্থা। নবদরিদ্র ও অতিদরিদ্র সৃষ্টি হয়েছে পাঁচ কোটি ৯৫ লাখ। মধ্যবিত্তের শতকরা ৬০ ভাগ করোনাকালে বিপদে রয়েছে। এছাড়া করোনার আগে বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ২০.৫ ভাগ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিলো আর চরম দরিদ্র ছিলো ১০ ভাগ। করোনাকালে এ পরিসংখ্যান বদলে গেছে। দরিদ্র বেড়েছে শতকরা ১০ ভাগ। এই অবস্থায় মহাবিপদে পড়েছেন গরিব-মধ্যবিত্তরা। কেমন করে পরিবার নিয়ে দিন পার করবেন সেটাই তাদের চিন্তা। এ চিন্তা দূর করার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। কর্মসংস্থানের পথ বাড়াতে হবে। বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে নিত্যপণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে। থামাতে হবে চিকিৎসা সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। সরকারি হাসপাতালে সেবার মান বাড়ানো জরুরি। তা না হলে মানুষ আরো বিপদে পড়বেন। আমরা আশা করছি সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। সার্বিক অবস্থায় আরো ভালো পদক্ষেপ নিবেন।

সর্বশেষ

সর্বশেষ মন্তব্য