30 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, জুন ২৪, ২০২১

অনলাইন টিভি

Bangladesh
866,877
কোভিড-১৯ সর্বমোট আক্রান্ত
Updated on June 24, 2021 12:01 PM
Homeরাজনীতিবিলুপ্তি নাকি অপকৌশল!

বিলুপ্তি নাকি অপকৌশল!

নতুন কথা প্রতিবেদন: হঠাৎ করে কওমী মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের সব ধরণের রাজনৈতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ এবং হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা কি আসলেই বিলুপ্তি নাকি অপকৌশল! তা আরেকবার ভেবে দেখতে হবে-এমনটা মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধা ও বিশ্লেষকরা। এক দশকের বেশি সময় ধরে যারা উগ্রবাদী হুমকি, আক্রমণ ও নাশকতা ছাড়া কিছুই করে নাই-তারা কি সত্যিই নিজেদেরকে গুটিয়ে নিল নাকি আপাতত এসব দ্বায় এড়াতে সুযোগ সন্ধানি পদক্ষেপ নিয়ে সময়ের অপেক্ষার অপকৌশল নিয়ে এগোতে চাইছে সেটা ভালো করেই ক্ষতিয়ে দেখতে হবে। যে বাবু নগরী বললেন, “নেতাদের তালিকা দিন, সবাইকে নিয়ে জেলে যাব”-সেই বাবু নগরী হঠাৎ করে কেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করলেন! আবার মাত্র আড়াই ঘন্টার মাথায় কেনই বা নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হলো-সেটাও ভাববার বিষয়।
হেফাজতের মুখে একটাই সুর তারা ‘অরাজনৈতিক সংগঠন’। কিন্তু এদেশের বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বার বার’ই বলে আসছেন হেফাজত মোটেও অরাজনৈতিক সংগঠন নয়, তাদের রয়েছে সুদুঢ়প্রসারি রাজনৈতি অভিসন্ধি। তারা মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে উৎখাত করে দেশকে আবার পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নিতে চায়। হেফাজতের নাশকতা ও তা-বে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু সেটাই প্রমাণ করে। এরাই শ্লোগান তুলেছিল ‘আমরা হব তালেবান, বাংলা হবে আফগান’। এরকম শ্লোগানকে যারা কেবল মুখের কথা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, তারা রাজনৈতিকভাবে ভুলপথে হেঁটেছেন। এ শ্লোগান মোটেও কথার কথা নয়। আফগানিস্তান দখলের অপশক্তি তালেবানের জন্ম কওমী মাদ্রাসা থেকে। তাদের হেড কোয়ার্টার ছিল পাকিস্তানের পেশওয়ারের আকোড়া’র খাট্টায় দারুল উলুম হাক্কানিয়া মাদ্রাসা। আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর তালেবানরা সব ধরণের স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেয়। কেবল চালু ছিল মাদ্রাসা। কাবুলের লাইব্রেরি, জাদুঘর ছিল তাদের টার্গেট। তালেবানরা গৌতম বুদ্ধের ভাস্কর্য কামান দিয়ে উড়িয়ে দেয়। হেফাজতের স্টাইল তালেবানদের মতোই। এই হেফাজতের মূল ঘাঁটি হাটহাজারীর দারুল উলুম কওমী মাদ্রাসা। হেফাজত তালেবানদের মতোই টার্গেট করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতালয়, ধীরেন্দ্রনাথ ভাষা চত্ত্বর এবং স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃত। কেবল তাই নয়, বহুদিন থেকে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি কওমি মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মগজে ঢুকিয়ে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী চেতনা। অসাম্প্রদায়িক-ধর্মনিরপেক্ষতা, স্বাধীনতার স্থপতি, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত, শহীদ মিনার এবং বাঙালির সার্বজনীন উৎসব বাংলা নববর্ষ সম্পর্কেও তাদের মগজে ঢোকানো হয় প্রাচীন অন্ধ ঘৃণা আর বিদ্বেষ! ফলে তারা জাতীয় সঙ্গীতের নকল করে, বেশিরভাগ মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা উঠায় না, নববর্ষ পালনে হুমকি দেয়, এমনকি জাতির জনকের ভাস্কর্য বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়ার মতো হুমকি দিতেও দ্বিধা করে না। এখানেই শেষ নয়, হেফাজত যে কতটা রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল তার প্রমাণ জন্মের শুরুতেই তারা ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করেছিল। যে দাবিগুলো ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ’৭২-এর সংবিধান পরিপন্থী। বিমানবন্দরে লালন ভাস্কর্য অপসারণ এবং সুপ্রিমকোর্টের ন্যায় বিচারের প্রতীক নারী ভাস্কর্য অপসারণের দাবিকে যারা হালকা করে দেখেছিলেন, তারা আজ তা টের পাচ্ছেন। হেফাজতের তা-ব মনে করিয়ে দিয়েছে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে পাক সেনাদের সাথে রাজাকারদের নারকীয় তা-বকে। ’৭১-এ আক্রমণ করা হয়েছিল হিন্দু অধ্যুষিত গ্রাম শাল্লায়, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে ঠিক একই কায়দায় আবারো সেখানে হামলা করা হলো। দেশে এক অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তারা সময় বেছে নিল জাতির জনকের জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে। অতএব হেফাজত মোটেও অরাজনৈতিক নয়। হেফাজত অতীতের বাংলা ভাই, শায়েখ আব্দুর রহমান, হরকাতুল জেহাদ, জেএমবির নব্য সংস্করণ। কেবল রুপ ও ধরণ পাল্টেছে। নীতি ও কৌশল পাল্টে নাই। তৎকালীন সরকারও বলেছিল জঙ্গি বলে কিছু নেই। কিন্তু ২০০৭ সালে তাদের বিচার ও ফাঁসির রায় কার্যকরের মধ্যে দিয়ে তা জাতির সামনে স্পষ্ট হয়েছে।
ফলে এত ব্যাপক নাশকতার পরে হঠাৎ করে হেফাজতের বিলুপ্তি এবং কওমী মাদ্রাসায় ছাত্র-শিক্ষকের সব ধরণের রাজনৈতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ ঘোষণায় মোটেও তৃপ্তির ঢেকুর তোলার কিছুই নেই। বরং মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ এগিয়ে নিতে এই অপশক্তিকে এখনই সমূলে উৎখাত করতে হবে। বাংলাদেশে যেমন ধর্মভীরু মানুষ বেশি, তেমনি এদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। এখানে উগ্রবাদীতার কোনো স্থান নেই। হেফাজত ও উগ্র মৌলবাদী অপশক্তিকে এখনই রুখতে হবে। তা না হলে এরা ভবিষ্যতের জন্য আরো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারকৃত মামুনুলের কাছ থেকে হেফাজতের অর্থের উৎস এবং জঙ্গীবাদের সাথে সংশ্লিষ্টতার নানা তথ্য উঠে আসছে। যা জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে। অতএব কোনো রকম আপোষকামিতা নয়, উগ্রবাদী অপশক্তিকে এখনই দমাতে হবে-বলছেন মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সর্বশেষ

×

আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ